বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর

ভর্তুকির বড় সুবিধা পাচ্ছে ধনীরা, বঞ্চিত গরিবরা: বিশ্বব্যাংক



ভর্তুকির বড় সুবিধা পাচ্ছে ধনীরা, বঞ্চিত গরিবরা: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে উঠে আসা তথ্য। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

বিদ্যুৎ, সার ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারের বিপুল ভর্তুকির বড় অংশই চলে যাচ্ছে সচ্ছল পরিবারের কাছে। অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের প্রায় অর্ধেক কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভর্তুকির সুফল বণ্টনে বড় বৈষম্য বিরাজ করছে। বর্তমানে সরকার জিডিপির প্রায় ৩.৫ শতাংশ বা ১৭.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে জ্বালানি, সার ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে। তবে সুবিধাভোগী নির্বাচনের দুর্বলতার কারণে এই বিপুল ব্যয়ের সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ খাতে বিশ্বব্যাংক লাইফলাইন সীমা ৭৫ ইউনিটে উন্নীত করা এবং মাসে ১৫০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে ভর্তুকি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটির মতে, আমদানি করা এলএনজি এখন দেশের গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ করছে। এতে গ্যাস সরবরাহ ব্যয় বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়ছে, যা অপচয় রোধ ও দক্ষতা বাড়িয়ে কমানো সম্ভব।

সার ভর্তুকির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বেশি জমির মালিকরাই সবচেয়ে লাভবান হচ্ছেন। শীর্ষ ২০ শতাংশ ধনী ভূমি মালিক মোট সার ভর্তুকির প্রায় ৫০ শতাংশ পান, আর ক্ষুদ্রতম ৪০ শতাংশ পান মাত্র ১৩ শতাংশ। অথচ ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার সার ভর্তুকি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকায়। এমনকি কৃষি বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশই চলে যাচ্ছে এই ভর্তুকিতে, যেখানে গবেষণায় বরাদ্দ মাত্র ৪.২ শতাংশ।

সামাজিক সুরক্ষা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১.৪৪ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্য থাকলেও সেখানেও রয়েছে অসম বণ্টন। তথাকথিত দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিগুলো থেকে সবচেয়ে দরিদ্র পঞ্চমাংশের ৬৩ শতাংশ পরিবার বাদ পড়ছে, অথচ ধনী পঞ্চমাংশের ১৮ শতাংশ পরিবার সুবিধা পাচ্ছে। গড়ে বার্ষিক সুবিধার পরিমাণও দরিদ্রদের চেয়ে ধনীদের ক্ষেত্রে বেশি।

এই অসামঞ্জস্য দূর করতে সরকার অর্থ বিভাগের আওতায় একক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে সাড়ে তিন কোটির বেশি সুবিধাভোগী যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বা ডিএসআর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করে সহায়তা নিশ্চিত করতে পারলেই ভর্তুকির মূল লক্ষ্য পূরণ হবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: সাভারে দুইজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি।

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: সাভারে দুইজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি।

বিজয়ের আগস্ট শুরু: গণঅভ্যুত্থানের ৩২ জুলাইয়ে নিষিদ্ধ জামায়াত, চারিদিকে লাশের মিছিল

বিজয়ের আগস্ট শুরু: গণঅভ্যুত্থানের ৩২ জুলাইয়ে নিষিদ্ধ জামায়াত, চারিদিকে লাশের মিছিল

দলের পেছনে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব কর্মী, টাকার অভাবে নিজ বাড়িতেই শয্যাগত হামিদুল।

দলের পেছনে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব কর্মী, টাকার অভাবে নিজ বাড়িতেই শয্যাগত হামিদুল।

বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরে নতুন দিগন্ত: ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মেরিটাইম প্রফেশনালস’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন!

বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরে নতুন দিগন্ত: ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মেরিটাইম প্রফেশনালস’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন!

১৭ বছর রাজপথে থেকে আজ ষড়যন্ত্রের শিকার! অষ্টগ্রাম বিএনপির কান্ডারি সাঈদ আহমেদ।

১৭ বছর রাজপথে থেকে আজ ষড়যন্ত্রের শিকার! অষ্টগ্রাম বিএনপির কান্ডারি সাঈদ আহমেদ।

​গণভোট, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আজ কুড়িগ্রামে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা।

​গণভোট, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আজ কুড়িগ্রামে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা।

পাথালিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মাঝে রেইনকোট বিতরণ।

পাথালিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মাঝে রেইনকোট বিতরণ।

লালবাগে জিয়া সাইবার ফোর্সের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

লালবাগে জিয়া সাইবার ফোর্সের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গবেষণার ভূমিকা: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গবেষণার ভূমিকা: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটি ঘোষণা

বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটি ঘোষণা

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের ইলিশ রক্ষায় ধারাবাহিক অভিযান

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের ইলিশ রক্ষায় ধারাবাহিক অভিযান

এআই ও বিকৃত কনটেন্ট নিয়ে মেহজাবীনের প্রশ্ন: আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

এআই ও বিকৃত কনটেন্ট নিয়ে মেহজাবীনের প্রশ্ন: আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৭৫৯ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৭৫৯ জন গ্রেপ্তার

পাটগ্রামে অবৈধ ভুট্টাবীজ প্যাকেটজাতের অভিযোগ ও গোডাউন সিলগালা

পাটগ্রামে অবৈধ ভুট্টাবীজ প্যাকেটজাতের অভিযোগ ও গোডাউন সিলগালা

এইচপিভি টিকা: ৪ বছরের মেয়েদেরও সুপারিশ ডব্লিউএইচওর

এইচপিভি টিকা: ৪ বছরের মেয়েদেরও সুপারিশ ডব্লিউএইচওর

তিন বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস, রাতের তাপমাত্রা কমার আভাস

তিন বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস, রাতের তাপমাত্রা কমার আভাস

বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা: আদালতে পুলিশ পরিদর্শকের সাক্ষ্য

বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা: আদালতে পুলিশ পরিদর্শকের সাক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ল মূল্যস্ফীতি, ফের সুদের হার বৃদ্ধির শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ল মূল্যস্ফীতি, ফের সুদের হার বৃদ্ধির শঙ্কা

দুই বছর পর পর্দায় ফিরছে চঞ্চল চৌধুরীর আলোচিত সিরিজ ‘ফেউ’

দুই বছর পর পর্দায় ফিরছে চঞ্চল চৌধুরীর আলোচিত সিরিজ ‘ফেউ’

শাহজালালে শাড়ির নিচে মিলল ৪ কেজি কুশ, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

শাহজালালে শাড়ির নিচে মিলল ৪ কেজি কুশ, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ভর্তুকির বড় সুবিধা পাচ্ছে ধনীরা, বঞ্চিত গরিবরা: বিশ্বব্যাংক

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিদ্যুৎ, সার ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারের বিপুল ভর্তুকির বড় অংশই চলে যাচ্ছে সচ্ছল পরিবারের কাছে। অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের প্রায় অর্ধেক কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভর্তুকির সুফল বণ্টনে বড় বৈষম্য বিরাজ করছে। বর্তমানে সরকার জিডিপির প্রায় ৩.৫ শতাংশ বা ১৭.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে জ্বালানি, সার ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে। তবে সুবিধাভোগী নির্বাচনের দুর্বলতার কারণে এই বিপুল ব্যয়ের সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ খাতে বিশ্বব্যাংক লাইফলাইন সীমা ৭৫ ইউনিটে উন্নীত করা এবং মাসে ১৫০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে ভর্তুকি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটির মতে, আমদানি করা এলএনজি এখন দেশের গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ করছে। এতে গ্যাস সরবরাহ ব্যয় বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়ছে, যা অপচয় রোধ ও দক্ষতা বাড়িয়ে কমানো সম্ভব।

সার ভর্তুকির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বেশি জমির মালিকরাই সবচেয়ে লাভবান হচ্ছেন। শীর্ষ ২০ শতাংশ ধনী ভূমি মালিক মোট সার ভর্তুকির প্রায় ৫০ শতাংশ পান, আর ক্ষুদ্রতম ৪০ শতাংশ পান মাত্র ১৩ শতাংশ। অথচ ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার সার ভর্তুকি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকায়। এমনকি কৃষি বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশই চলে যাচ্ছে এই ভর্তুকিতে, যেখানে গবেষণায় বরাদ্দ মাত্র ৪.২ শতাংশ।

সামাজিক সুরক্ষা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১.৪৪ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্য থাকলেও সেখানেও রয়েছে অসম বণ্টন। তথাকথিত দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিগুলো থেকে সবচেয়ে দরিদ্র পঞ্চমাংশের ৬৩ শতাংশ পরিবার বাদ পড়ছে, অথচ ধনী পঞ্চমাংশের ১৮ শতাংশ পরিবার সুবিধা পাচ্ছে। গড়ে বার্ষিক সুবিধার পরিমাণও দরিদ্রদের চেয়ে ধনীদের ক্ষেত্রে বেশি।

এই অসামঞ্জস্য দূর করতে সরকার অর্থ বিভাগের আওতায় একক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে সাড়ে তিন কোটির বেশি সুবিধাভোগী যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বা ডিএসআর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করে সহায়তা নিশ্চিত করতে পারলেই ভর্তুকির মূল লক্ষ্য পূরণ হবে।


Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মেহেদী হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ভর্তুকির বড় সুবিধা পাচ্ছে ধনীরা, বঞ্চিত গরিবরা: বিশ্বব্যাংক
0:00 / 0:00
1x
অ্যাপ ডাউনলোড করুন