বিদ্যুৎ, সার ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারের বিপুল ভর্তুকির বড় অংশই চলে যাচ্ছে সচ্ছল পরিবারের কাছে। অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের প্রায় অর্ধেক কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভর্তুকির সুফল বণ্টনে বড় বৈষম্য বিরাজ করছে। বর্তমানে সরকার জিডিপির প্রায় ৩.৫ শতাংশ বা ১৭.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে জ্বালানি, সার ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে। তবে সুবিধাভোগী নির্বাচনের দুর্বলতার কারণে এই বিপুল ব্যয়ের সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ খাতে বিশ্বব্যাংক লাইফলাইন সীমা ৭৫ ইউনিটে উন্নীত করা এবং মাসে ১৫০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে ভর্তুকি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটির মতে, আমদানি করা এলএনজি এখন দেশের গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ করছে। এতে গ্যাস সরবরাহ ব্যয় বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়ছে, যা অপচয় রোধ ও দক্ষতা বাড়িয়ে কমানো সম্ভব।
সার ভর্তুকির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বেশি জমির মালিকরাই সবচেয়ে লাভবান হচ্ছেন। শীর্ষ ২০ শতাংশ ধনী ভূমি মালিক মোট সার ভর্তুকির প্রায় ৫০ শতাংশ পান, আর ক্ষুদ্রতম ৪০ শতাংশ পান মাত্র ১৩ শতাংশ। অথচ ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার সার ভর্তুকি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকায়। এমনকি কৃষি বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশই চলে যাচ্ছে এই ভর্তুকিতে, যেখানে গবেষণায় বরাদ্দ মাত্র ৪.২ শতাংশ।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১.৪৪ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্য থাকলেও সেখানেও রয়েছে অসম বণ্টন। তথাকথিত দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিগুলো থেকে সবচেয়ে দরিদ্র পঞ্চমাংশের ৬৩ শতাংশ পরিবার বাদ পড়ছে, অথচ ধনী পঞ্চমাংশের ১৮ শতাংশ পরিবার সুবিধা পাচ্ছে। গড়ে বার্ষিক সুবিধার পরিমাণও দরিদ্রদের চেয়ে ধনীদের ক্ষেত্রে বেশি।
এই অসামঞ্জস্য দূর করতে সরকার অর্থ বিভাগের আওতায় একক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে সাড়ে তিন কোটির বেশি সুবিধাভোগী যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বা ডিএসআর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করে সহায়তা নিশ্চিত করতে পারলেই ভর্তুকির মূল লক্ষ্য পূরণ হবে।