শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
LIVE ENGLISH

কোড অব এথিক্স

কোড অব এথিক্স

একটি সচেতন জনসমাজই ন্যায়বিচার ও সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি বলে বিশ্বাস করে ‘মহাকল্লোল নিউজ’। এই লক্ষ্য অর্জনে মহাকল্লোল নিউজ  বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ‘সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টস’ (এসপিজে)-এর চার্টার ও আচরণবিধি অনুসরণ করবে। আমাদের প্রতিটি সংবাদকর্মী সততা, বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে। এসপিজে নির্ধারিত চারটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করেই মহাকল্লোল নিউজ এর সামগ্রিক সাংবাদিকতা পরিচালিত হবে।

১. সত্য অনুসন্ধান ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রধান শর্ত তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরপেক্ষতা। তথ্য সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মহাকল্লোল নিউজ এর সাংবাদিকেরা সৎ, আপসহীন ও সাহসী ভূমিকা পালন করেবেন।

আমাদের সংবাদকর্মীদের করণীয়:

তথ্যের নির্ভুলতা ও যাচাইকরণ: প্রতিটি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীর। সম্ভব হলে সরাসরি মূল উৎস থেকে তথ্য যাচাই করতে হবে। খবরের দ্রুততা বা প্রকাশনার মাধ্যম কখনোই ভুল তথ্য প্রচারের অজুহাত হতে পারে না।

প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ ও ধারাবাহিকতা:

যেকোনো সংবাদের সঠিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে হবে। সংবাদ সংক্ষেপ বা উপস্থাপনার সময় যেন তথ্যের বিকৃতি বা অতিসরলীকরণ না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। খবরের জীবনকালজুড়ে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ ও সংশোধন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

উৎস প্রকাশ ও সুরক্ষার ভারসাম্য:

তথ্যের উৎস যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে, যাতে পাঠক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিজে মূল্যায়ন করতে পারেন। তবে কোনো উৎস যদি জীবনের ঝুঁকি, প্রতিহিংসা বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক হন, তবেই কেবল তাঁর পরিচয় গোপন রাখা যাবে (যদি সেই তথ্য অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া অসম্ভব হয়)। পরিচয় গোপন রাখার যৌক্তিক কারণ প্রতিবেদনে স্পষ্ট করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য: 

প্রতিবেদনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমালোচনা বা অভিযোগ থাকলে, অভিযুক্ত পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

ছদ্মবেশ ও গোপন অনুসন্ধান পরিহার:

তথ্য সংগ্রহের জন্য আন্ডারকাভার বা ছদ্মবেশী পদ্ধতি পরিহার করতে হবে। কেবল জনস্বার্থের চরম প্রয়োজনে এবং প্রচলিত উপায়ে তথ্য পাওয়া অসম্ভব হলে অবধারিত ক্ষেত্র হিসেবে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে।

ক্ষমতাবানদের জবাবদিহি ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর: 

ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সোচ্চার থাকতে হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রান্তিক মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে।

ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও বহুত্ববাদ:

নিজের পছন্দের বাইরে থাকা মতামতের ক্ষেত্রেও গঠনমূলক ও শালীন বিতর্কের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

নজরদারি ও স্বচ্ছতা:

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করতে হবে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো তথ্য ও সরকারি নথিপত্র যেন জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

চৌর্যবৃত্তি বর্জন:

প্লেজারিজম বা অন্যের লেখা নিজের নামে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেকোনো তথ্যের ক্ষেত্রে মূল উৎসের যথাযথ ক্রেডিট ও রেফারেন্স দিতে হবে।

২. সংবেদনশীলতা ও ক্ষতি হ্রাস করা

নৈতিক সাংবাদিকতায় খবরের পেছনের মানুষগুলোকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহের সময় যেন অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি বা কারও ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।

আমাদের সংবাদকর্মীদের করণীয়:

জনস্বার্থ বনাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তা: তথ্যের জন্য জনগণের অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তি-মর্যাদা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির আশঙ্কার মধ্যে একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। তথ্য সংগ্রহের নামে কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে অহেতুক হস্তক্ষেপ বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা যাবে না।

প্রান্তিক ও ভুক্তভোগীদের প্রতি সহমর্মিতা:

শিশু, নারী, যৌন অপরাধের শিকার ব্যক্তি কিংবা সম্মতি দেওয়ার শারীরিক বা মানসিক যোগ্যতাহীন ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে।

আইনগত ও নৈতিক অধিকারের পার্থক্য: 

কোনো তথ্য সংগ্রহের আইনি অধিকার থাকা মানেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার নৈতিক যৌক্তিকতা প্রমাণ করে না—এই তফাতটি বুঝতে হবে।

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় অগ্রাধিকার:

ক্ষমতা বা পাদপ্রদীপের আলোয় থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় সাধারণ মানুষের নিজেদের তথ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার বেশি। তাই সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য বা সংবেদনশীল চিত্র প্রকাশের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সুষ্ঠু বিচারের অধিকার রক্ষা:

কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার যেন সংবাদ পরিবেশনের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা

সাংবাদিকতার প্রধানতম ও সর্বোচ্চ অঙ্গীকার হলো স্বাধীনভাবে জনগণের সেবা করা।

আমাদের সংবাদকর্মীদের করণীয়:

স্বার্থের সংঘাত পরিহার: যেকোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে। যদি কোনো অনিবার্য সংঘাত তৈরি হয়, তবে তা সম্পাদকীয় পর্ষদকে স্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে।

উপহার ও বিশেষ সুবিধা প্রত্যাখ্যান:

যেকোনো ধরনের উপহার, আর্থিক সুবিধা, সৌজন্য ভ্রমণ, অবৈতনিক সেবা বা ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এমন কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া যাবে না যা সাংবাদিকের পেশাদার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বস্ততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তথ্যের বিনিময়ে অর্থ পরিহার:

সংবাদের তথ্য পাওয়ার জন্য কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা দেওয়া যাবে না। কোনো তথ্যদাতার উদ্দেশ্য সন্দেহজনক মনে হলে সতর্ক থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপনদাতা ও প্রভাবশালীদের প্রভাবমুক্ত থাকা: 

বিজ্ঞাপনদাতা, অনুদানকারী কিংবা কোনো বিশেষ প্রভাবশালী মহলের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।

সংবাদ ও স্পনসরড কনটেন্টের স্পষ্ট বিভাজন:

সংবাদ ও বিজ্ঞাপনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে বজায় রাখতে হবে। স্পনসরড বা বিজ্ঞাপনী কনটেন্টকে এমনভাবে চিহ্নিত করতে হবে যেন তা সাধারণ সংবাদের সাথে গুলিয়ে না যায়।

৪. জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নিজের কাজের দায় নেওয়া এবং সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনগণের কাছে স্বচ্ছ থাকা।

আমাদের সংবাদকর্মীদের করণীয়:

সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা: প্রতিবেদনের পেছনের নৈতিক ও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তগুলো প্রয়োজনে পাঠকের কাছে স্পষ্ট করতে হবে। সাংবাদিকতা নিয়ে গঠনমূলক যেকোনো সমালোচনা ও সংলাপকে স্বাগত জানাতে হবে।

অভিযোগের তড়িৎ জবাব: 

প্রতিবেদনের নির্ভুলতা, সততা বা নিরপেক্ষতা নিয়ে পাঠকের যেকোনো যৌক্তিক প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিতে হবে।

ভুল স্বীকার ও সংশোধন:

প্রতিবেদনে কোনো ভুল হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করতে হবে এবং দৃশ্যমানভাবে তা সংশোধন করতে হবে। সংশোধনী নোটিশটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা আবশ্যক।

অনৈতিকতা উন্মোচন:

নিজের প্রতিষ্ঠানের ভেতরের অনিয়মসহ সাংবাদিকতা পেশার যেকোনো অনৈতিক চর্চাকে উন্মোচন করতে হবে।

স্বচ্ছতা বজায় রাখা:

অন্যের কাছ থেকে যে উচ্চ পেশাদারি মানদণ্ড আশা করা হয়, তা নিজেদের কাজের ক্ষেত্রেও মেনে চলতে হবে।

🔒