বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর

বিএনপির আদ্যোপান্ত: ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা



বিএনপির আদ্যোপান্ত: ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা
“বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে প্রতীকী চিত্র।”

প্রতিষ্ঠা থেকে ক্ষমতার শীর্ষে, দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতি পেরিয়ে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায়—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮ বছরের ইতিহাস

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চার দশকের বেশি সময় ধরে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, কখনো প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এবং কখনো রাজপথের আন্দোলনের নেতৃত্বে থেকেছে। প্রায় অর্ধশতাব্দীর এই রাজনৈতিক পথচলায় দলটি যেমন পেয়েছে রাষ্ট্রক্ষমতার স্বাদ ও ব্যাপক জনসমর্থন, তেমনি পার করেছে হত্যা, সামরিক শাসন, আন্দোলন, নির্বাচন বর্জন, মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক সংকটের দীর্ঘ অধ্যায়।

২০২৬ সালে বিএনপির আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দলটির ৪৮ বছরের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়। ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দলটির নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন।

যেভাবে জন্ম বিএনপির

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর কয়েক বছর পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়।

দলটির ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বিএনপির নিজস্ব ইতিহাসে দলটি দাবি করে, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে দলটির জন্ম।

প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যু ও নেতৃত্বের সংকট

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর বিচারপতি আবদুস সাত্তার দলটির নেতৃত্বে আসেন এবং পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সরকারের পতন ঘটে।

এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ের মুখে পড়ে। ঠিক এই সময়েই রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়ার।

খালেদা জিয়ার উত্থান

খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে তিনি দলের নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

এরপর বিএনপির রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে এরশাদবিরোধী আন্দোলন। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন, হরতাল, মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিএনপি অংশ নেয়। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।

এই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

১৯৯১: বিএনপির বড় প্রত্যাবর্তন

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। ১৯৯১ সালের সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফিরে যায় বাংলাদেশ।

তবে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপিকে দ্রুতই তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।

১৯৯৬: মাত্র কয়েক মাসের সরকার

১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার আয়োজন করলেও প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। ওই নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলেও ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে অল্প সময়ের মধ্যেই সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের জুনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ১১৬টি আসন পেয়ে বিরোধী দলে যায়।

এই সময় থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে আন্দোলন-সংগ্রাম ও ক্ষমতার বাইরে থেকে সরকারবিরোধী কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২০০১: আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে বিএনপি

১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বড় বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে। বিএনপি এককভাবে ১৯৩?—এখানে বিভিন্ন উৎসে জোট ও দলের আসনসংখ্যা নিয়ে পার্থক্য দেখা যায়; তবে নির্ভরযোগ্য সংসদীয় তথ্য অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।

২০০১-২০০৬ মেয়াদে খালেদা জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হন। এই সময় সরকারের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে ছিল অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে জোট সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং প্রশাসনিক দলীয়করণের অভিযোগও ওঠে।

ফলে বিএনপির এই মেয়াদ যেমন উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দাবির জন্য আলোচিত, তেমনি বিতর্ক ও সমালোচনার কারণেও গুরুত্বপূর্ণ।

২০০৭-০৮: ওয়ান-ইলেভেন ও বিএনপির বিপর্যয়

২০০৬ সালের শেষদিকে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক সংকট চরমে ওঠে। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়।

এই সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা গ্রেপ্তার হন। তারেক রহমানও গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে। বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পায়।

২০১৪: নির্বাচন বর্জন

২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিরোধ তীব্র হয়।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোট বর্জন করে। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

এরপর বিএনপি দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলন, হরতাল ও সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকে।

২০১৮: নির্বাচনে অংশগ্রহণ, কিন্তু ভরাডুবি

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে। তবে নির্বাচনের ফল বিএনপির জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। দলটি মাত্র ৭টি আসন পায়। একই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি আসন জিতে সরকার গঠন করে। নির্বাচনটি নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের পক্ষ থেকে অনিয়ম, সহিংসতা ও ভোট কারচুপির অভিযোগ ওঠে; সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।

এই নির্বাচনের পর বিএনপি সংসদে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে চলে যায়।

খালেদা জিয়ার কারাবাস ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান। বিএনপি এই মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। লন্ডনে অবস্থান করেও তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন।

২০২৪: আবার নির্বাচন বর্জন

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। দলটির দাবি ছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিএনপি নির্বাচনের বাইরে থাকায় সংসদে দলটির কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল না।

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। আন্দোলনের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছাড়েন।

এরপর দীর্ঘদিনের বিরোধী দল বিএনপির সামনে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।

২০২৬: ৪৮ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দলটির ভোটের হার ছিল প্রায় ৪৯.৯৭ শতাংশ।

বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন। এর মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর বিএনপি আবার সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা দুই-তৃতীয়াংশের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং দলটি সরকার গঠনের জন্য শক্তিশালী ম্যান্ডেট পায়।

এটি বিএনপির জন্য শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়; দলটির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্বের একটি প্রজন্মগত পরিবর্তনেরও প্রতীক। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি এখন তাঁর সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া

২০২৬ সালের আগস্টে বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ওলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

এর ফলে বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব শুধু সরকার ও সংসদেই নয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর শীর্ষ পদেও বিস্তৃত হয়েছে।

৪৮ বছরে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের পরিবর্তন

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় রাজনীতির কথা বলা হয়েছে।

তবে সময়ের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতিশাসিত রাজনৈতিক পর্ব থেকে খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্রের নেতৃত্ব, এরপর তারেক রহমানের নেতৃত্বে আধুনিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে বিএনপি বিভিন্ন সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্যকে মানিয়ে নিয়েছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে দলটি দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দেয়।

বিতর্কও কম নয়

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস শুধু সাফল্যের গল্প নয়। দলটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। আবার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা, গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নির্বাচনী বৈষম্যের অভিযোগও দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত হয়েছে।

২০০১-০৬ মেয়াদ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ২০০৬-০৮ সালের সংকট, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন, ২০১৮ সালের নির্বাচন—প্রতিটি অধ্যায়ই বিএনপির ইতিহাসের সঙ্গে বিতর্ক ও পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হয়ে আছে।

তাই বিএনপির ইতিহাস মূল্যায়নে দলটির নিজস্ব বয়ান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গবেষকদের মূল্যায়নও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

চার যুগে বিএনপির পথচলা

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসকে মোটামুটি চারটি বড় পর্বে ভাগ করা যায়—

প্রথম পর্ব: ১৯৭৮-১৯৮১

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রতিষ্ঠা, দ্রুত সাংগঠনিক বিস্তার ও ক্ষমতায় উত্থান।

দ্বিতীয় পর্ব: ১৯৮২-১৯৯০

এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির পুনর্গঠন।

তৃতীয় পর্ব: ১৯৯১-২০০৬

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে দুই দফায় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এবং পরবর্তীতে বিরোধী রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন।

চতুর্থ পর্ব: ২০০৭-২০২৬

ওয়ান-ইলেভেন, ২০০৮ সালের পরাজয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী বিপর্যয়, ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন, ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ২০২৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন।

সামনে বিএনপির চ্যালেঞ্জ

৪৮ বছর পর বিএনপি আবার শক্তিশালী ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে। কিন্তু ক্ষমতায় ফেরাই দলটির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নয়; বরং এখন বড় প্রশ্ন—দলটি কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে।

অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা—এসবই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে।

উপসংহার

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর যে দলটির জন্ম হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে, সেই বিএনপি ৪৮ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে উপস্থিত থেকেছে। কখনো ক্ষমতার কেন্দ্রে, কখনো রাজপথে; কখনো নির্বাচনী বিজয়ের উল্লাসে, আবার কখনো রাজনৈতিক বিপর্যয়ে—দলটির ইতিহাস বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় রাজনীতিতে স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করে। আর ২০২৬ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ইতিহাসে শুরু হয়েছে নতুন প্রজন্মের অধ্যায়।

এখন ইতিহাসের পরবর্তী প্রশ্ন একটাই—৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিএনপি কি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে, যা দলটির অতীত সাফল্য ও বিতর্ক—দুইকেই ছাড়িয়ে যাবে?


এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ৫/৫ (১ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: সাভারে দুইজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি।

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: সাভারে দুইজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি।

বিজয়ের আগস্ট শুরু: গণঅভ্যুত্থানের ৩২ জুলাইয়ে নিষিদ্ধ জামায়াত, চারিদিকে লাশের মিছিল

বিজয়ের আগস্ট শুরু: গণঅভ্যুত্থানের ৩২ জুলাইয়ে নিষিদ্ধ জামায়াত, চারিদিকে লাশের মিছিল

দলের পেছনে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব কর্মী, টাকার অভাবে নিজ বাড়িতেই শয্যাগত হামিদুল।

দলের পেছনে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব কর্মী, টাকার অভাবে নিজ বাড়িতেই শয্যাগত হামিদুল।

বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরে নতুন দিগন্ত: ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মেরিটাইম প্রফেশনালস’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন!

বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরে নতুন দিগন্ত: ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মেরিটাইম প্রফেশনালস’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন!

১৭ বছর রাজপথে থেকে আজ ষড়যন্ত্রের শিকার! অষ্টগ্রাম বিএনপির কান্ডারি সাঈদ আহমেদ।

১৭ বছর রাজপথে থেকে আজ ষড়যন্ত্রের শিকার! অষ্টগ্রাম বিএনপির কান্ডারি সাঈদ আহমেদ।

​গণভোট, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আজ কুড়িগ্রামে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা।

​গণভোট, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আজ কুড়িগ্রামে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা।

পাথালিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মাঝে রেইনকোট বিতরণ।

পাথালিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মাঝে রেইনকোট বিতরণ।

লালবাগে জিয়া সাইবার ফোর্সের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

লালবাগে জিয়া সাইবার ফোর্সের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গবেষণার ভূমিকা: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গবেষণার ভূমিকা: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটি ঘোষণা

বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটি ঘোষণা

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের ইলিশ রক্ষায় ধারাবাহিক অভিযান

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের ইলিশ রক্ষায় ধারাবাহিক অভিযান

এআই ও বিকৃত কনটেন্ট নিয়ে মেহজাবীনের প্রশ্ন: আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

এআই ও বিকৃত কনটেন্ট নিয়ে মেহজাবীনের প্রশ্ন: আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৭৫৯ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৭৫৯ জন গ্রেপ্তার

পাটগ্রামে অবৈধ ভুট্টাবীজ প্যাকেটজাতের অভিযোগ ও গোডাউন সিলগালা

পাটগ্রামে অবৈধ ভুট্টাবীজ প্যাকেটজাতের অভিযোগ ও গোডাউন সিলগালা

এইচপিভি টিকা: ৪ বছরের মেয়েদেরও সুপারিশ ডব্লিউএইচওর

এইচপিভি টিকা: ৪ বছরের মেয়েদেরও সুপারিশ ডব্লিউএইচওর

তিন বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস, রাতের তাপমাত্রা কমার আভাস

তিন বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস, রাতের তাপমাত্রা কমার আভাস

বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা: আদালতে পুলিশ পরিদর্শকের সাক্ষ্য

বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা: আদালতে পুলিশ পরিদর্শকের সাক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ল মূল্যস্ফীতি, ফের সুদের হার বৃদ্ধির শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ল মূল্যস্ফীতি, ফের সুদের হার বৃদ্ধির শঙ্কা

দুই বছর পর পর্দায় ফিরছে চঞ্চল চৌধুরীর আলোচিত সিরিজ ‘ফেউ’

দুই বছর পর পর্দায় ফিরছে চঞ্চল চৌধুরীর আলোচিত সিরিজ ‘ফেউ’

শাহজালালে শাড়ির নিচে মিলল ৪ কেজি কুশ, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

শাহজালালে শাড়ির নিচে মিলল ৪ কেজি কুশ, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


বিএনপির আদ্যোপান্ত: ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রতিষ্ঠা থেকে ক্ষমতার শীর্ষে, দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতি পেরিয়ে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায়—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮ বছরের ইতিহাস

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চার দশকের বেশি সময় ধরে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, কখনো প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এবং কখনো রাজপথের আন্দোলনের নেতৃত্বে থেকেছে। প্রায় অর্ধশতাব্দীর এই রাজনৈতিক পথচলায় দলটি যেমন পেয়েছে রাষ্ট্রক্ষমতার স্বাদ ও ব্যাপক জনসমর্থন, তেমনি পার করেছে হত্যা, সামরিক শাসন, আন্দোলন, নির্বাচন বর্জন, মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক সংকটের দীর্ঘ অধ্যায়।

২০২৬ সালে বিএনপির আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দলটির ৪৮ বছরের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়। ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দলটির নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন।

যেভাবে জন্ম বিএনপির

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর কয়েক বছর পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়।

দলটির ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বিএনপির নিজস্ব ইতিহাসে দলটি দাবি করে, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে দলটির জন্ম।

প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যু ও নেতৃত্বের সংকট

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর বিচারপতি আবদুস সাত্তার দলটির নেতৃত্বে আসেন এবং পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সরকারের পতন ঘটে।

এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ের মুখে পড়ে। ঠিক এই সময়েই রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়ার।

খালেদা জিয়ার উত্থান

খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে তিনি দলের নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

এরপর বিএনপির রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে এরশাদবিরোধী আন্দোলন। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন, হরতাল, মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিএনপি অংশ নেয়। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।

এই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

১৯৯১: বিএনপির বড় প্রত্যাবর্তন

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। ১৯৯১ সালের সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফিরে যায় বাংলাদেশ।

তবে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপিকে দ্রুতই তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।

১৯৯৬: মাত্র কয়েক মাসের সরকার

১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার আয়োজন করলেও প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। ওই নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলেও ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে অল্প সময়ের মধ্যেই সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের জুনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ১১৬টি আসন পেয়ে বিরোধী দলে যায়।

এই সময় থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে আন্দোলন-সংগ্রাম ও ক্ষমতার বাইরে থেকে সরকারবিরোধী কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২০০১: আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে বিএনপি

১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বড় বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে। বিএনপি এককভাবে ১৯৩?—এখানে বিভিন্ন উৎসে জোট ও দলের আসনসংখ্যা নিয়ে পার্থক্য দেখা যায়; তবে নির্ভরযোগ্য সংসদীয় তথ্য অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।

২০০১-২০০৬ মেয়াদে খালেদা জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হন। এই সময় সরকারের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে ছিল অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে জোট সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং প্রশাসনিক দলীয়করণের অভিযোগও ওঠে।

ফলে বিএনপির এই মেয়াদ যেমন উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দাবির জন্য আলোচিত, তেমনি বিতর্ক ও সমালোচনার কারণেও গুরুত্বপূর্ণ।

২০০৭-০৮: ওয়ান-ইলেভেন ও বিএনপির বিপর্যয়

২০০৬ সালের শেষদিকে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক সংকট চরমে ওঠে। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়।

এই সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা গ্রেপ্তার হন। তারেক রহমানও গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে। বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পায়।

২০১৪: নির্বাচন বর্জন

২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিরোধ তীব্র হয়।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোট বর্জন করে। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

এরপর বিএনপি দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলন, হরতাল ও সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকে।

২০১৮: নির্বাচনে অংশগ্রহণ, কিন্তু ভরাডুবি

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে। তবে নির্বাচনের ফল বিএনপির জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। দলটি মাত্র ৭টি আসন পায়। একই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি আসন জিতে সরকার গঠন করে। নির্বাচনটি নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের পক্ষ থেকে অনিয়ম, সহিংসতা ও ভোট কারচুপির অভিযোগ ওঠে; সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।

এই নির্বাচনের পর বিএনপি সংসদে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে চলে যায়।

খালেদা জিয়ার কারাবাস ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান। বিএনপি এই মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। লন্ডনে অবস্থান করেও তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন।

২০২৪: আবার নির্বাচন বর্জন

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। দলটির দাবি ছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিএনপি নির্বাচনের বাইরে থাকায় সংসদে দলটির কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল না।

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। আন্দোলনের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছাড়েন।

এরপর দীর্ঘদিনের বিরোধী দল বিএনপির সামনে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।

২০২৬: ৪৮ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দলটির ভোটের হার ছিল প্রায় ৪৯.৯৭ শতাংশ।

বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন। এর মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর বিএনপি আবার সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা দুই-তৃতীয়াংশের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং দলটি সরকার গঠনের জন্য শক্তিশালী ম্যান্ডেট পায়।

এটি বিএনপির জন্য শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়; দলটির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্বের একটি প্রজন্মগত পরিবর্তনেরও প্রতীক। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি এখন তাঁর সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া

২০২৬ সালের আগস্টে বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ওলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

এর ফলে বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব শুধু সরকার ও সংসদেই নয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর শীর্ষ পদেও বিস্তৃত হয়েছে।

৪৮ বছরে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের পরিবর্তন

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় রাজনীতির কথা বলা হয়েছে।

তবে সময়ের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতিশাসিত রাজনৈতিক পর্ব থেকে খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্রের নেতৃত্ব, এরপর তারেক রহমানের নেতৃত্বে আধুনিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে বিএনপি বিভিন্ন সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্যকে মানিয়ে নিয়েছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে দলটি দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দেয়।

বিতর্কও কম নয়

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস শুধু সাফল্যের গল্প নয়। দলটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। আবার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা, গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নির্বাচনী বৈষম্যের অভিযোগও দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত হয়েছে।

২০০১-০৬ মেয়াদ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ২০০৬-০৮ সালের সংকট, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন, ২০১৮ সালের নির্বাচন—প্রতিটি অধ্যায়ই বিএনপির ইতিহাসের সঙ্গে বিতর্ক ও পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হয়ে আছে।

তাই বিএনপির ইতিহাস মূল্যায়নে দলটির নিজস্ব বয়ান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গবেষকদের মূল্যায়নও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

চার যুগে বিএনপির পথচলা

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসকে মোটামুটি চারটি বড় পর্বে ভাগ করা যায়—

প্রথম পর্ব: ১৯৭৮-১৯৮১

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রতিষ্ঠা, দ্রুত সাংগঠনিক বিস্তার ও ক্ষমতায় উত্থান।

দ্বিতীয় পর্ব: ১৯৮২-১৯৯০

এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির পুনর্গঠন।

তৃতীয় পর্ব: ১৯৯১-২০০৬

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে দুই দফায় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এবং পরবর্তীতে বিরোধী রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন।

চতুর্থ পর্ব: ২০০৭-২০২৬

ওয়ান-ইলেভেন, ২০০৮ সালের পরাজয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী বিপর্যয়, ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন, ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ২০২৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন।

সামনে বিএনপির চ্যালেঞ্জ

৪৮ বছর পর বিএনপি আবার শক্তিশালী ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে। কিন্তু ক্ষমতায় ফেরাই দলটির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নয়; বরং এখন বড় প্রশ্ন—দলটি কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে।

অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা—এসবই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে।

উপসংহার

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর যে দলটির জন্ম হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে, সেই বিএনপি ৪৮ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে উপস্থিত থেকেছে। কখনো ক্ষমতার কেন্দ্রে, কখনো রাজপথে; কখনো নির্বাচনী বিজয়ের উল্লাসে, আবার কখনো রাজনৈতিক বিপর্যয়ে—দলটির ইতিহাস বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় রাজনীতিতে স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করে। আর ২০২৬ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ইতিহাসে শুরু হয়েছে নতুন প্রজন্মের অধ্যায়।

এখন ইতিহাসের পরবর্তী প্রশ্ন একটাই—৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিএনপি কি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে, যা দলটির অতীত সাফল্য ও বিতর্ক—দুইকেই ছাড়িয়ে যাবে?



Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মেহেদী হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বিএনপির আদ্যোপান্ত: ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা
0:00 / 0:00
1x
অ্যাপ ডাউনলোড করুন