মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ চলমান থাকার মধ্যে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আমিন আগামিরি স্টারলিংককে শত্রুর যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন যে এটি কমান্ড ও কন্ট্রোল, গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়।
জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশ স্টারলিংক নিষিদ্ধ বা সীমিত করেছে এবং এর ব্যবহার বা দখলের জন্য ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড নির্ধারণ করেছে। ডিভাইস আমদানি ও বিতরণের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সাথে জড়িত থাকলে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। ইরান কর্তৃপক্ষ স্টারলিংক সংযোগ ব্লক করতে জ্যামার, জিপিএস স্পুফিং এবং ড্রোন তল্লাশির মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
২০২২ সাল থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্টারলিংক ইরানিদের বিদেশে বিক্ষোভের ভিডিও পাঠাতে সাহায্য করেছে এবং এর পর থেকে দেশটিতে হাজার হাজার টার্মিনাল পাচার করা হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। জুন মাসে ইসরাইলি রাজনীতিবিদ নাফতালি বেনেট দাবি করেছিলেন যে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করার জন্য ইসরাইল ইরানে হাজার হাজার স্টারলিংক ডিভাইস পাচার করেছিল।
সরকারি মুখপাত্র ফাতেমে সাইবার আক্রমণ থেকে মানুষ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার অজুহাতে ইন্টারনেট গতি কমানোর কথা স্বীকার করেছেন এবং ৯ কোটি মানুষের এই দেশটিতে ২০২৬ সালে দুটি দীর্ঘ বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট শাটডাউন ঘটেছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে দেশটি বিভিন্ন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছে।