কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক ট্যাবু ভেঙে কিশোর-কিশোরীদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এই কথা জানান। তিনি বলেন, শুধু আলোচনা নয়, নীতি সংস্কার ও পরিকল্পনাকে দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তব কাজে রূপান্তর করতে হবে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোর-কিশোরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সুস্থ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কৈশোরে শারীরিক পরিবর্তন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কৌতূহল স্বাভাবিক বিষয় জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার কারণে কিশোর-কিশোরীরা সঠিক তথ্য পাওয়ার জায়গা খুঁজে পায় না। একইভাবে মানসিক ট্রমা ও পারিবারিক সহিংসতা তাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে এবং এসব বিষয় চেপে রাখলে সমস্যা বাড়ে। প্রশ্ন করলেই সন্তানদের ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং তাদের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দেওয়ার ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।
কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে বলে জানান তিনি। তাই সব সরকারি-বেسكرারি উদ্যোগ ও কর্মসূচি পরিবারকেন্দ্রিক হতে হবে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে বড় পরিসরে ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্দিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে বাল্যবিবাহ ও সহিংসতার হটস্পটগুলোতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।