আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অর্থপাচার, দুর্নীতি, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং অবৈধ আর্থিক প্রবাহ মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। বুধবার ব্যাংককে চলমান মহাসম্মেলনে আইএমএফ শীর্ষ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। সংস্থাটি বলছে, এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোকে আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিজনিত অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা দেয়া হবে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার বুধবার অর্থপাচার ও দুর্নীতি-বিরোধী বিষয়ভিত্তিক তহবিল নিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আইএমএফের ফার্স্ট ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড্যান কাটজ এতে বক্তব্য রাখেন এবং আলোচনায় বক্তারা বলেন যে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের গুরুত্ব কয়েকটি জায়গায় বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্তকরণ, কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থপ্রবাহ মোকাবিলা এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমানো। দেশ থেকে অর্থপাচারের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, আর্থিক লেনদেনের কার্যকর নজরদারি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, তদন্তের সক্ষমতা এবং অপরাধলব্ধ সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের এই নতুন উদ্যোগের তাৎপর্য, তাই শুধু আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহি বাড়ানো এবং অবৈধ অর্থপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে দেশীয় সংস্কার কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে সহায়তার ঘোষণার চেয়ে বেশি তার বাস্তব প্রয়োগের ওপর। অর্থপাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর তদন্ত, নিরপেক্ষ নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে তার সুফল সরকারি রাজস্ব, বিনিয়োগের পরিবেশ ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় প্রতিফলিত হতে পারে।
তবে এএমএলএসি তহবিল থেকে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা নতুন ঋণ পাবে- এমন কোনো তথ্য প্রকাশিত কর্মসূচিতে উল্লেখ নেই। এটি মূলত সক্ষমতা উন্নয়ন ও কারিগরি সহায়তার একটি কাঠামো; তাই একে নতুন ঋণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের জন্য বাস্তব প্রশ্ন হলো, এই উদ্যোগের আওতায় দেশটি কী ধরনের কারিগরি সহায়তা চাইতে পারে, আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে কোন প্রতিষ্ঠানগুলো আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারে কী অগ্রগতি সম্ভব।