চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা এবং চার মাস আগে থেকে নেওয়া আগাম প্রস্তুতির ফলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, আগের বছরগুলোতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত প্রতি হাজারে পাঁচজনের মৃত্যু হলেও এ বছর তা কমে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার চার মাস আগেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল এবং প্রায় দুই মাস আগেই প্রকোপ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা ও তীব্রতা কম হলেও পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে এবং মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন এবং প্রতি শনিবার সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান চলছে। ঢাকা ও খুলনা বিভাগে রোগীর চাপ বেশি থাকায় মশা ও লার্ভা নিধনে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীকে নিজ দায়িত্বে ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
নাগরিকদের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. এম এ মুহিত বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ বা পুলিশ দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বহুতল ভবনগুলোর পার্কিং বা ফেলে রাখা কার্টনের জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই নিজের ঘর, ছাদ, বারান্দার টব ও ভবনের নিচতলা নিয়মিত পরিষ্কার রেখে পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।