আসন্ন ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলি নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ট্রাম্প জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর এবং গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করার মতো ইসরায়েলপন্থী নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই নেতার সম্পর্কের মাঝে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে তার কোনো বড় প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর থেকেই ট্রাম্প ইসরায়েলকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাছাড়া, হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে তিনি নেতানিয়াহুকে অন্তত সাতবার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যা অন্য বিশ্ব নেতাদের তুলনায় অনেক বেশি। তা সত্ত্বেও টাইম ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে কোনো অনুমোদন দেওয়া থেকে তিনবার বিরত থেকেছেন।
ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল এবং তার নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থী জোট ইয়েশার দলের নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে বিরোধী ব্লকের তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের আরব সেন্টারের ফিলিস্তিন ইসরায়েল কর্মসূচির প্রধান ইউসুফ মুনাইয়েরের মতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের বিবর্তন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণেই এই কৌশলগত দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আইজেনকোটের ব্যাপারে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে তিনি তার সম্পর্কে খারাপ কিছু শোনেননি।
এদিকে নেতানিয়াহু এই নির্বাচনী চক্রে ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার ছবি সংবলিত ব্যানার বা হোর্ডিং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকছেন। আন্তর্জাতিক সংকট গ্রুপের ইসরায়েল বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক মৈরাভ জন্সজেইন জানান যে নেতানিয়াহু এখন তার বন্ধুদের চেয়ে শত্রুদের ওপর বেশি ফোকাস করছেন। এর মধ্যে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মতো নাম রয়েছে।