পশ্চিম তীরের হেব্রন শহরে ইসরায়েলি চেকপয়েন্ট, লোহার গেট এবং রাস্তা বন্ধের কারণে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন চরম দুর্দশাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৬০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা বদর আল-তামিমী জানান, এই কড়াকড়ির ফলে সাধারণ কাজগুলোও এক একটি কঠিন পরীক্ষার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৯৪ সালের ইব্রাহিমি মসজিদ হত্যাকাণ্ডের পর হেব্রনের ভূগোলে বড় পরিবর্তন আসে, যার ফলে পুরনো শহরটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ১৯৯৭ সালের হেব্রন প্রটোকল অনুযায়ী শহরটিকে দুটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে এইচ২ অঞ্চলের পুরো নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতেই থেকে যায়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হেব্রনে চেকপয়েন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২টিতে এবং চলাচলের অন্যান্য বাধা ১৩০টি ছাড়িয়ে গেছে। মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি জানান যে এই কঠোর ব্যবস্থার কারণে পুরনো শহর এবং সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্যমতে, পশ্চিম তীরের চেকপয়েন্টের প্রায় ৪০ শতাংশই রয়েছে হেব্রনের ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এইচ২ এলাকায়। কড়া নিরাপত্তা ও চলাচলের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় থমে গেছে এবং ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।