সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন এবং সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি এই ঘটনাকে একটি ‘পুরোদস্তুর যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং রিয়াদ এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হামলার পরপরই বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এছাড়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রিয়াদের সমস্ত স্কুলে এক সপ্তাহের জন্য দূরশিক্ষণ বা অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হামলার সরাসরি দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আকাশসীমা ও বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলতে বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এসব এলাকা তাদের বাহিনীর অভিযানের আওতাভুক্ত এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে তার দায় সৌদি আরবকেই নিতে হবে। এছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জাজান, নাজরান ও আভা বিমানবন্দর এবং আরামকোর তেল শোধনাগারেও সম্প্রতি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আক্রমণকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করে এতে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এমন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও এই হামলার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও যুদ্ধ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানিয়েছেন, তাদের পাল্টা অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১৫০ জন হুথি সদস্য নিহত হয়েছে। তাইজ, মারিব এবং আল-জাওফ অঞ্চলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে এবং পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।