বন্ধ করুন
কক্সবাজারের হোটেলে প্রেমিকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে উঠেছিলেন তাজমিন
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


কক্সবাজারের হোটেলে প্রেমিকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে উঠেছিলেন তাজমিন


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট:
কক্সবাজারের হোটেলে প্রেমিকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে উঠেছিলেন তাজমিন
কক্সবাজারের হোটেলে প্রেমিকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে উঠেছিলেন তাজমিন
Featured Image

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তদন্তে উঠে এসেছে তার কক্সবাজার যাত্রা, সেখানে অবস্থান এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার নানা তথ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তাজমিন। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে এক রাত কাটান তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন তাজমিন ও রাজু। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছাড়েন।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলসের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল প্রায় ১৭ দিন আগে। তবে অন্য একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পরিচয়ের সময়কাল প্রায় পাঁচ মাস।

তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে গত ৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান তাজমিন। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠান। সেই টাকা পাওয়ার পর তাজমিন কক্সবাজারে যান।

কক্সবাজারে অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার জন্য বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন তাজমিন ও রাজু। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়। একই দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাস থেকে নামেন তিনি। এরপর রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া তাকে গন্তব্যে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে একটি ধানখেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে পরে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে, তাজমিনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তার মা কেয়া খাতুন জানান, মেয়ের সঙ্গে শেষবার কথা বলার সময় সে এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল। তবে কোথায় অবস্থান করছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

তাজমিনের গৃহশিক্ষক সাদ বিন এরশাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়েটি ছিল চঞ্চল স্বভাবের। রাগ বা অভিমান হলে মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেত। তবে মায়ের অসুস্থতার সময় যমজ দুই ছোট ভাইয়ের যত্নও নিত সে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।