সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চালানো প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। চলতি সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো হওয়া এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছেন। বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবারের এই হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া নিহতদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বলেছেন, বেসামরিক বিমানবন্দরে এই হামলা একটি মারাত্মক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে জানান, তিনি দ্রুতই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন এবং হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওয়াশিংটন যুক্ত হবে কি না তা বিবেচনা করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলায় একজন আমেরিকান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কাতার, মিসর ও ফিলিস্তিন পৃথক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নেওয়া সব পদক্ষেপে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সমবেদনা জানিয়েছেন। এদিকে ওমান সংযম প্রদর্শন ও বিচক্ষণতার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং জাপান বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে সৌদি আরবের প্রতি অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে, যার পাল্টা জবাবে হুথিরা এই হামলা চালিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।