বায়ু দূষণ রোধ, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বায়ুর মান উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘বায়ু দূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান ড. মাহমুদা পারভিন অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন। ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর উপাচার্য, প্রফেসর ড. শরিফ নাফে আস-সাবের। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ টি এম নুরুল আমিন ও ব্রাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্চ এবং এনভারমেন্টাল রিসার্চ উপপরিচালক রাউফা খানম প্রমুখ।
প্রফেসর ড. শরিফ নাফে আস-সাবের বলেন, বায়ুদূষণ রোধে প্রথমেই জানতে হবে সমস্যাটা কী এবং দেশীয় প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। সমস্যার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলেই আমরা বুঝতে পারব, কেন দুষণ হচ্ছে এবং আমাদের জন্য কোন সমাধানটি কার্যকর। অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ুর মান উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ কেবল জনস্বাস্থ্যকেই ধ্বংস করছে না, বরং এটি আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারকেও সরাসরি বাধাগ্রস্ত করছে। জীবাশ্ম জ্বালানি, বিশেষ করে কয়লা ও জ্বালানি তেল পুড়িয়ে বাতাসে যে বিপুল পরিমাণ সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ানো হচ্ছে, তা প্রতিনিয়ত সোলার প্যানেলের ওপর পুরুস্তর তৈরি করে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। দূষণের এই চক্রাকার প্রভাবে সোলার প্রজেক্টগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার পথও রুদ্ধ হচ্ছে।