অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর তাঁকে ‘ইভিল ডেড’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। এবার একটি নতুন লাইভ ভিডিওতে সেই সমালোচনার জবাব দিয়ে নিজের মন্তব্যের পক্ষে অনড় অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। নানাকে রাবণের সঙ্গে তুলনা করে তিনি স্পষ্ট জানান, সত্য কথা বলতে তিনি কোনো ভয় পান না।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান নানা পাটেকর। এরপর তনুশ্রীর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হলে অভিনেত্রী বলেন, “কারো মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে খারাপ কথা বলা নিয়ে মানুষের এত আপত্তি থাকলে রাবণের কুশপুতুল পোড়ানোও বন্ধ করা উচিত।” এরপর তিনি নানাকে ‘শয়তানি, ধূর্ত, কারসাজি করা, চালাক মস্তিষ্কের ও মিথ্যাবাদী’ বলে আখ্যা দেন।
ভিডিওতে নানার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তনুশ্রী বলেন, “ও নিজের কর্মের ফলেই মারা গেছে, যদি সত্যিই মারা গিয়ে থাকে। এ বিষয়ে আমার একটু সন্দেহ আছে। কারণ, সুশান্ত সিং রাজপুত ও দিশা সালিয়ানের মামলা যেভাবে সামনে এসেছে, তাতে অনেকের মুখোশ খুলছে এবং গভীর তদন্ত চলছে। দূর থেকে হলেও কারো কোনো যোগসূত্র থাকলে আজ হোক বা কাল, তার নাম সামনে আসবে। তাই আমার একটু সন্দেহ হচ্ছে, সে সত্যিই মারা গেছে, নাকি পালানোর জন্য এটা আরেকটি কৌশল।” অভিনেত্রী আরও বলেন, “সত্য কথা বলতে আমি দ্বিধা করব না, কারণ আমি ভয় পাই না।”
এর আগে নানার মৃত্যুর খবর পেয়ে লখনউ যাওয়ার পথে বিমানে ওঠার সময় দেওয়া এক বক্তব্যে তনুশ্রী বলেছিলেন, “আমি খবরটা শুনেছি। কিন্তু আজ আমার কাজের দিন। আমি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লখনো যাচ্ছি। আমি সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই। এমন দিনে এসব ঘটল, বিষয়টি বেশ অদ্ভুত।” তিনি আরও যোগ করেন, “লখনোতে আমার খুব বড় একটি অনুষ্ঠান রয়েছে, যা আমার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পুরো দিনের পরিকল্পনা করা ছিল। আমি বেশ কয়েকটি লাইভ করার এবং কনটেন্ট পোস্ট করার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন চিন্তা হচ্ছে, সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে শুধু ‘ইভিল ডেড’ মন্তব্যটি। কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, তা ঠিক করে তারপর আমি আমার বক্তব্য দেব। অবশ্যই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি, কিন্তু…”
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার শুটিংয়ে চিত্রনাট্যে না থাকা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। ২০১৮ সালে ‘মি টু’ আন্দোলনের সময়ে বিষয়টি সামনে এনে তিনি এফআইআর দায়ের করেন, যদিও নানা পাটেকর অভিযোগ অস্বীকার করেন। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ২০১৯ সালে মামলাটি বন্ধ হয় এবং আইনি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নানার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করে দেন।