সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে (পিটুপি) লেনদেন চালু হতে যাচ্ছে। শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) বাংলা কিউআরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান এ তথ্য জানান। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও ইউআইইউ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
গভর্নর জানান, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চারটি ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী নভেম্বর থেকে এর চতুর্থ ধাপ শুরু হলে যেকোনো ব্যক্তি নিজস্ব কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ ও পাঠাতে পারবেন। এর আগে গত ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে ব্যবস্থাটির লেনদেন সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এছাড়া ১ অক্টোবর থেকে যেকোনো অঙ্কের লেনদেনের মাশুল শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বাংলা কিউআরের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গত জুনের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৩৭ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। লেনদেন চার গুণেরও বেশি বাড়লেও এ অগ্রগতিকে চূড়ান্ত সাফল্য মনে করছেন না তিনি। গভর্নর উল্লেখ করেন, বাংলা কিউআরকে পুরোদমে কার্যকর করতে হলে দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন হওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলা কিউআর নিয়ে আগ্রহের কথা জানিয়ে গভর্নর বলেন, গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও জোরদার করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।