ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ দমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে আয়োজিত গণবিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানী নয়াদিল্লি কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং নির্বাচন কমিশন প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রভাবশালী ‘জেন-জি’ আন্দোলন ও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এই কর্মসূচির ডাক দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লির ৫০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, শুক্রবার রাজধানীতে আসার সব ট্রেন বাতিল এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
মুম্বাই থেকে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই ককরোচ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া আন্দোলনের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দিপকে লিখেছেন, নরেন্দ্র মোদি কার্যত জরুরি অবস্থা জারি করেছেন, তবে দেশের তরুণ সমাজ তাকে আর ভয় পায় না।
বামপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা ভোরা বর্তমান সরকারকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে তুলনা করে সবাইকে আন্দোলনে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন। এদিকে কনট প্লেসে উপস্থিত পথঝাড়ুদার সন্তোষ কুমার বলেন, পুলিশ ১০ জনকে আটক করলে আরও ৫০ জন চলে আসছে, এই তরুণদের থামানো অসম্ভব।
গুরুগ্রাম থেকে হুইলচেয়ারে আসা ৫৭ বছর বয়সী শীবা আবদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ কেড়ে নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় পাচ্ছে। অন্যদিকে দিল্লি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে সাহারানপুরে এসএফআই নেতা আরিফকে বিক্ষোভ ঠেকাতে মধ্যরাতে বাড়িতে নজরবন্দি করে রেখেছে পুলিশ।
সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, মোদি সরকার জনগণকে ভয় পেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে কঠোর দমনপীড়ন চালাচ্ছে, যা আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দেবে। বিশ্লেষক ও মোদির জীবনীকার নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় উল্লেখ করেন, গণআন্দোলনের মুখে মোদি এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন এবং নিজের অপরাজেয় ভাবমূর্তি রক্ষার্থেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন।