বন্ধ করুন
পোস্টার আঁকা থেকে বলিউড জয়: নানা পাটেকরের জীবনের অজানা ৮ অধ্যায়
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


পোস্টার আঁকা থেকে বলিউড জয়: নানা পাটেকরের জীবনের অজানা ৮ অধ্যায়


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট:
পোস্টার আঁকা থেকে বলিউড জয়: নানা পাটেকরের জীবনের অজানা ৮ অধ্যায়
পোস্টার আঁকা থেকে বলিউড জয়: নানা পাটেকরের জীবনের অজানা ৮ অধ্যায়
Featured Image

বলিউডের দাপুটে অভিনেতা নানা পাটেকর সম্প্রতি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। পাঁচ দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দর্শকদের অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও পদ্মশ্রী সম্মাননা। গুণী এই অভিনেতার বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু অজানা দিক উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

নানা পাটেকরের শৈশব ছিল অত্যন্ত সংগ্রামের। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে তিনি সিনেমার পোস্টার ও সাইনবোর্ড আঁকার কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন ৮ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে কাজের বিনিময়ে তিনি ৩৫ টাকা ও একবেলা খাবার পেতেন। ছবি আঁকার এই দক্ষতা তাকে পরবর্তীতে মুম্বাই পুলিশের স্কেচ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করেছিল।

এক সাক্ষাৎকারে নানা জানিয়েছিলেন, অভিনেতা না হলে তিনি হয়তো অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়তেন। কারণ যৌবনে তিনি বেশ রাগী ও মারকুটে স্বভাবের ছিলেন এবং মানুষ তাকে ভয় পেত। এছাড়া তার ধূমপানের তীব্র আসক্তি ছিল। দিনে ৬০টি পর্যন্ত সিগারেট খেতেন তিনি, যা ৫৬ বছর বয়সে হঠাৎ করেই ছেড়ে দেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি নানা ছিলেন একজন দক্ষ রাঁধুনি। শুটিং সেটে তার হাতের রান্না খাওয়ার জন্য সবাই মুখিয়ে থাকতেন। একবার এক সিনেমার সেটে তিনি একজন প্রযোজককে দিয়ে থালাবাসন মাজিয়ে নিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায় নানার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিয়ে একটি সিনেমা করতে চেয়েছিলেন, যদিও সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

মুম্বাইয়ের চাকচিক্য ছেড়ে পুনের ডনজে গ্রামে নিজের ২৭ একরের খামারবাড়িতে সাধারণ জীবন কাটাতে ভালোবাসতেন এই অভিনেতা। সেখানে তিনি নিজে চাষাবাদ করতেন এবং পশুপাখি পালন করতেন। এই খামারবাড়ির শান্ত পরিবেশ তাকে তারকাখ্যাতির জাঁকজমক থেকে দূরে শান্তিতে থাকতে সাহায্য করত।

মহারাষ্ট্রের খরাগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে নানা পাটেকর ও মকরন্দ আনাসপুরে মিলে ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন। নিজের শখের গাড়ি কেনার দেড় কোটি টাকা তিনি কৃষকদের কল্যাণে দান করেছিলেন। এছাড়া তার আয়ের বড় একটি অংশ সবসময় চ্যারিটিতে ব্যয় করতেন এই মহান অভিনেতা।

ব্যক্তিগত জীবনে নানা পাটেকর বড় আঘাত পান তার প্রথম সন্তান দুর্বাসের মৃত্যুতে। শারীরিক জটিলতা নিয়ে জন্মানো শিশুটি মাত্র আড়াই বছর বয়সে মারা যায়। সন্তানের অসুস্থতা নিয়ে মানুষের নেতিবাচক ভাবনার দুশ্চিন্তা করায় পরবর্তীতে তিনি গভীর অপরাধবোধে ভুগেছেন, যা তার জীবনের একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।