যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বর্তমানে শুধু নামেমাত্র টিকে রয়েছে বলে জানিয়েছে একশটিরও বেশি মানবিক ও মানবাধিকার সংস্থা। শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফাম এবং গ্রিনপিসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এই অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৪৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত তিন বছরের ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কমপক্ষে ২১ হাজার শিশু রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এই হিসাব কেবল হাসপাতাল বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত মৃত্যুর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। নরওয়েজিয়ান কাউন্সিলের জ্যান ইজেল্যান্ড উল্লেখ করেছেন যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে প্রায় প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে অবশিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে ভেঙে পড়েছে এবং কোনো হাসপাতালেই পর্যাপ্ত ওষুধ, সরঞ্জাম ও জ্বালানি নেই। ১৮ হাজার ৫০০-র বেশি রোগীর দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও বিদেশ গমন প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত ৪ হাজার শিশু রয়েছে এবং অপেক্ষারত অবস্থায় ১ হাজার জনের বেশি মারা গেছেন। এছাড়া প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি চরম আশ্রয়ের সংকটে রয়েছেন, কারণ এখানকার ৮০ শতাংশ অবকাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবারের হামলায় আল-মুসদ্দার, মাগাজি এবং বুরেজ শরণার্থী শিবির এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং মধ্য গাজায় ব্যাপক কামান হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের বানি সুহেইলা গোলচত্বরে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কের ভারী গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবারের বিমান ও গোলা হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন।
অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন যে ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বারবার ব্যর্থতার কারণে ফিলিস্তিনিদের ওপর বড় পরিসরে নৃশংসতা অব্যাহত রয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী ইঙ্গার অ্যাশিং মন্তব্য করেছেন যে শিশুরা নিহত হতে থাকলে এবং পরিবারগুলো জীবন পুনর্গঠন করতে না পারলে যুদ্ধবিরতির কোনো অর্থ থাকে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রক্ষণশীল প্রাক্কলন অনুযায়ী, আহতদের প্রায় ২৪ শতাংশেরই জীবন বদলে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে।