বন্ধ করুন
পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে বিএনপির নেতার সুপারিশের মিল
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে বিএনপির নেতার সুপারিশের মিল


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট:
পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে বিএনপির নেতার সুপারিশের মিল
পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে বিএনপির নেতার সুপারিশের মিল
Featured Image

পীরগাছা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে বিএনপির নেতার দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকার সাথে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকার হুবহু মিল পাওয়া গেছে। গত ৯ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আখতার স্বাক্ষরিত তালিকায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে আটটি ইউনিয়নে তালিকার এক নম্বর এবং একটি ইউনিয়নে দুই নম্বর ব্যক্তিকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশের ১ নম্বর ক্রম হিসেবে সারের ডিলারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা স্বাক্ষরিত ৯টি ওয়ার্ডের জন্য ১৯ জনের একটি তালিকা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

কল্যাণী ইউনিয়নের জন্য উপজেলা বিএনপি সভাপতি স্বাক্ষরিত তালিকার ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জিকরুল আমিনকে কৃষি মন্ত্রণালয় বেলি ফার্টিলাইজারের ডিলার হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। কান্দি ইউনিয়ন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বাক্ষরিত তালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে মেসার্স সান ট্রেডার্সের ডিলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার বড় ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। পারুল ইউনিয়ন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বাক্ষরিত তালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকারকে নুহা ট্রেডার্সের ডিলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৈকুড়ী ইউনিয়ন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বাক্ষরিত তালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির ছেলে মীর তৌফিক হাসানকে মীর তৌফিক ট্রেডার্সের ডিলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ছাওলা ইউনিয়ন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বাক্ষরিত তালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ মো: জাকির হোসেনকে মেসার্স আয়মান ট্রেডার্সের ডিলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইটাকুমারী ইউনিয়ন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতির স্বাক্ষরিত তালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো: আলিমুদ্দিন ময়েন মোল্লাকে জেলা কমিটির সুপারিশের ১ নম্বর ক্রম হিসেবে সার ডিলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ছোট জামাতা ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং যিনি জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতির ঘনিষ্ঠ। অন্নদানগর ইউনিয়ন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বাক্ষরিত তালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির প্রথম স্ত্রীর কন্যা জয়িতা আক্তার জিনিকে জয়িতা সার বিতানের ডিলার হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তাম্বুলপুর ইউনিয়নের জন্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বাক্ষরিত তালিকার ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেসের স্ত্রী মোছা: সুইটি বেগমকে মেসার্স শামান্তা অ্যান্ড সিফা ট্রেডার্সের ডিলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পীরগাছা সদর ইউনিয়নের জন্য উপজেলা বিএনপি সভাপতির তালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার স্ত্রী মোছা: সুলতানা ফেরদৌসিকে রিয়া এন্টারপ্রাইজের ডিলার হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুটি তালিকার হুবহু মিলের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা জানান যে তিনি সার ডিলার নিয়োগের জন্য কোনো তালিকা কোথাও দেননি এবং প্রতিবেদকের কাছে থাকা তালিকাটি তার কাছে পাঠানো হলে তিনি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। দুটি তালিকার হুবহু মিলের বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াছমিন জানান যে উপজেলা সার কমিটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তিনটি করে নাম ডিসি অফিসে পাঠানো হয়েছিল এবং সেখান থেকে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান যে তালিকা কীভাবে মিললো সেটা তার জানা নেই এবং তারা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় আবেদিত তালিকা বিচার-বিশ্লেষণ করে তিনজনের নাম ডিসি অফিসে পাঠিয়েছেন। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ডিসি মিজ ইসরাত জাহানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে তালিকা পাঠিয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি। উপজেলাটিতে প্রতিটি ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগের জন্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাউর হয়েছে। টাকা গ্রহণের বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় এক নেতাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।