বন্ধ করুন
ইয়েমেনে আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়, দিশেহারা সাধারণ মানুষ
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


ইয়েমেনে আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়, দিশেহারা সাধারণ মানুষ


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট:
ইয়েমেনে আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়, দিশেহারা সাধারণ মানুষ
ইয়েমেনে আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়, দিশেহারা সাধারণ মানুষ
Featured Image

গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত ইয়েমেনের এডেন থেকে সানা—সর্বত্রই এখন আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়ে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আর অর্থনৈতিক মন্দার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এডেনের সরকারি চাকুরিজীবী বুশরা আল জাজিরাকে জানান, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার মাংসের মতো দামি খাবার কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকে এখন অল্প পরিমাণে খাবার কিনছেন অথবা দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নিচ্ছেন।

এডেনের একটি শপিং সেন্টারের কর্মী আয়মান আল-মাকতারি জানান, মানুষ এখন বিলাসদ্রব্য কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। চাল, চিনি বা তেলের মতো জরুরি পণ্য কেনার আগে তারা দাম যাচাই করে এবং ৪০ কেজির বদলে মাত্র ৫ কেজির প্যাকেট কিনছে।

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় সরকার মে মাসে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা অনুমোদন করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। বুশরার মতে, এই সামান্য বৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিশাল চাপের মুখে একটি সাময়িক ব্যথানাশক মাত্র।

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোর ৭৪ শতাংশ পরিবার তাদের মৌলিক খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারছে না। মারিব শহরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এখন পানি কিনবে নাকি দুধ, সেই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়ছে।

মারিবের সরকারি চাকুরিজীবী আবু মোহাম্মদ নাসের আল-আসবিহি জানান, তার মাসিক বেতন ৪ লাখ রিয়াল বা ২৫০ ডলার। এর অর্ধেকের বেশি চলে যায় ঘর ভাড়ায়, ফলে মাসের ১০ দিন পার হওয়ার আগেই তার হাতে আর কোনো টাকা থাকে না।

স্বাস্থ্যখাতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। ফার্মাসিস্ট খালেদ মোহসেন জানান, ওষুধের দাম বাড়ায় রোগীরা এখন প্রেসক্রিপশনের সব ওষুধ কিনছেন না। এমনকি দীর্ঘমেয়াদী রোগীরা সরবরাহ টিকিয়ে রাখতে ওষুধের ডোজ কমিয়ে দিচ্ছেন, যা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেও চিত্রটি একই রকম। সেখানে বছরের পর বছর সরকারি বেতন বকেয়া পড়ে আছে। মুদ্রার মান কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় জীবনযাত্রার মান চরম সংকটের মুখে পড়েছে।