নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হলে ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে মারাত্মক নিউমোনিয়া তৈরি করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। সংক্রমিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে এবং চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। তবে আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করলে রোগীর বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। চিকিৎসায় সাধারণত সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, লেভোফ্লোক্সাসিন, মোক্সিফ্লোক্সাসিন, জেন্টামাইসিন এবং স্ট্রিপটোমাইসিন ব্যবহার করা হয়।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. টাইলার ইভান্সের মতে, ১৪ শতকে ইউরোপে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত এই প্লেগে ৫ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে এটি এখন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও রোগটি সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। ৯০-এর দশক থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আফ্রিকায় এর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অ্যারিজোনায়। প্লেগ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আপাতত কম, কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি খুব দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিউমোনিক প্লেগ হলো ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট ফুসফুসের এক অত্যন্ত বিরল ও প্রাণঘাতী সংক্রমণ। ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণগুলোর মধ্যে একমাত্র নিউমোনিক প্লেগই মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি দিলে ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া শরীরে আক্রমণের স্থানের ওপর ভিত্তি করে বুবোনিক প্লেগ, সেপটিসেমিক প্লেগ এবং ফ্যারিনজিয়াল প্লেগের মতো রূপও তৈরি করতে পারে।