সরকার এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন প্রবণতা শনাক্ত, ভবিষ্যৎ সেবার চাহিদা অনুমান এবং নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। কর প্রশাসন, অবকাঠ রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি কিংবা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে এআই ব্যবহারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সামনে আসছে এক ধরনের আলগরিদমিক বুরোক্রেসি বা অ্যালগরিদমনির্ভর আমলাতন্ত্র, যেখানে প্রশাসক, তথ্য এবং কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থার পারস্পরিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ক্ষেত্রে সরকার যদি এআই-ভিত্তিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কোন পরিবার সহায়তা পাওয়ার যোগ্য তা নির্ধারণ করে, তাহলে কাজটি দ্রুত ও কম খরচে করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে যদি কোনো দরিদ্র পরিবার সহায়তা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রশাসনিক অন্যায়ও সৃষ্টি হতে পারে। ফলে শুধু কত দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে তা দিয়ে সাফল্য পরিমাপ করা যথেষ্ট নয়, যোগ্য নাগরিক ন্যায়সংগতভাবে সেবা পাচ্ছেন কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
উন্নয়নশীল দেশের জন্য এআই নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহের বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন কারণ দুর্বল প্রশাসনিক ভিত্তির ঘাটতি শুধু উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এআই ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, সক্ষম প্রতিষ্ঠান, যথাযথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা, কারিগরি দক্ষতা এবং সুস্পষ্ট জবাবদিহি প্রয়োজন। সরকারি তথ্যভান্ডার যদি বিচ্ছিন্ন বা ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে অ্যালগরিদম সেই নিম্নমানের তথ্য হয়তো আরও দ্রুত প্রক্রিয়া করবে, কিন্তু তার ফলে সিদ্ধান্তের মান উন্নত হবে এমন নিশ্চয়তা নেই।
প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে প্রশাসনিক নৈতিকতার প্রয়োজন কমবে না, বরং আরও বাড়বে কারণ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ, আচরণ অনুমান এবং সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয় করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যত শক্তিশালী হবে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক পর্যবেক্ষণের সুরক্ষাও তত শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। ওয়েবারীয় আমলাতন্ত্র থেকে এআই-নির্ভর প্রশাসনে বিবর্তনের অর্থ পুরোনো সরকারব্যবস্তাকে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে দক্ষতার সঙ্গে ন্যায়সংগততার সমন্বয় ঘটানো সম্ভব।