যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট অনকোলজি’তে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় জানানো হয়েছে যে বিশ্বব্যাপী প্রতি ৮টি ক্যানসারের ঘটনার মধ্যে একটির পেছনে কোনো না কোনো সংক্রমণের ভূমিকা রয়েছে। এর মধ্যে অনেক সংক্রমণই টিকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা তুলনামূলক সহজ চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার এর এপিডেমিওলজিস্ট এবং এই গবেষণার অন্যতম লেখক হ্যারিয়েট রামগে মনে করেন, লিভার ও পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো সংক্রমণজনিত কিছু ক্যানসারের চিকিৎসার ফলাফল সাধারণত ভালো হয় না।
২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ক্যানসারের সার্বিক একটা চিত্র পেতে গবেষকরা ‘গ্লোবাল ক্যানসার অবজারভেটরি’-র ডেটাবেস থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। নতুন এই গবেষণায় আরও ১৬টি ইনফেকশন-ক্যানসার জোড় যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইবিভিসংশ্লিষ্ট কিছু ক্যানসারও রয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন যে সংক্রমণজনিত ক্যানসারগুলোর ৭৭ শতাংশই হয়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। ক্যানসার সৃষ্টিকারী সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব এবং টিকা, স্ক্রিনিং, পরীক্ষা ও চিকিৎসাপ্রাপ্তির সুযোগের তারতম্যকেই ফুটিয়ে তোলে এই চিত্র।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির একটি আলাদা বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ভেরোনিকা ফেডিরকো জানান, ২০১৯ সালে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্ত ক্যানসারের ৩.৪ শতাংশই হয়েছিল সাতটি সংক্রমণের কারণে। এই সংক্রমণগুলো কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, কিন্তু আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষেরই কখনো ক্যানসার হয় না। ক্যানসার সাধারণত অল্পসংখ্যক মানুষের হয়, যখন কোনো সংক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয় এবং অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে মিলিত হয়ে তা ক্যানসারে রূপ নেয়।
গবেষণার ফল বলছে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত কার্যকর জায়গা হতে পারে। প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের মধ্যে থাকতে পারে টিকা নেওয়া এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে ক্যানসার-ঝুঁকি বাড়ায় এমন সংক্রমণের জন্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো। গ্যারি ক্লিফোর্ড বলেন, পরীক্ষা করানো এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করা ক্যানসারের যেকোনো ঝুঁকি প্রায় দূর করে দেয় এবং সংক্রমণ একবার শনাক্ত হলে তা কীভাবে সামলাতে হয় তা আমাদের জানা আছে।