আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোতে এখন প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের তোড়জোড় চলছে। কারিগররা নিপুণ হাতে খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামোয় ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা।
বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও চলছে মাটির কাজ, আবার কোথাও শুরু হয়েছে রং ও সাজসজ্জার অলংকরণ। কারিগররা জানান, গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিমার চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি দামও কিছুটা বেশি। আকার ও নকশার ভিন্নতা অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি, জুড়ী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক দিবাকর দাস জানান, এবার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৭৭টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব হবে, যা গত বছরের তুলনায় ১০টি বেশি। এর মধ্যে পশ্চিমজুড়ীতে ২৩টি সার্বজনীন ও দুটি ব্যক্তিগত, জায়ফরনগরে ১২টি সার্বজনীন ও একটি ব্যক্তিগত, ফুলতলায় ১১টি সার্বজনীন, গোয়ালবাড়ীতে ১০টি সার্বজনীন ও একটি ব্যক্তিগত, সাগরনালে ৯টি সার্বজনীন ও দুটি ব্যক্তিগত এবং পূর্বজুড়ীতে ছয়টি সার্বজনীন মণ্ডপ রয়েছে।
তিনি জানান, ভবানীগঞ্জ বাজারে দুটি এবং কামিনীগঞ্জ বাজারে একটি পূজামণ্ডপ রয়েছে, যেখানে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের প্রচুর সমাগম ঘটে। পূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার পর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের এই শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে। জ্যোতিষীয় বিশ্বাস মতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোড়ায় এবং গমন হবে নৌকায়। সব প্রস্তুতি শেষে এখন ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো জুড়ী।