ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়াচ্ছে, যেখানে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী সেনেটর ফ্যাভিও বোলসোনারোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। গত রবিবার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি, যার ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক ফলাফলে ফ্যাভিও বোলসোনারো প্রায় ৫ কোটি ৬০ লক্ষ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন, আর লুলার ঝুলিতে গেছে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লক্ষ ভোট।
জনমত জরিপের পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে ফ্যাভিও বোলসোনারো প্রথম দফায় দুই শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে চমক সৃষ্টি করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লুলাকে হারাতে মুখিয়ে থাকা ভোটারদের প্রটেস্ট ভোটের কারণে বোলসোনারো এই বাড়তি সমর্থন পেয়েছেন। তবে এর ফলে দ্বিতীয় দফায় তাঁর ভোট বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা কমে যেতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি ব্রাজিলের কংগ্রেসেও ডানপন্থী দলগুলো দুর্দান্ত ফলাফল অর্জন করেছে। বোলসোনারোর লিবারেল পার্টি বা পিএল প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে রয়েছে এবং সিনেটেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। এই শক্তিশালী অবস্থান বিজয়ী প্রার্থীকে ভবিষ্যতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৮০ বছর বয়সী লুলা দা সিলভা প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার লড়াই করছেন। অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্যাভিও বোলসোনারো হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র, যিনি বর্তমানে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কারাবন্দী রয়েছেন। আগামী তিন সপ্তাহের এই প্রচারণায় ১০ জন পরাজিত প্রার্থীর ভোটারদের সমর্থন টানাই এখন দুই প্রার্থীর প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমেরিকার সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও অপরাধের মতো সংকটের মধ্য দিয়ে ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি এই নির্বাচন পার করছে। প্রথম দফার এই নাটকীয় ফলাফল প্রমাণ করে যে ব্রাজিলের রাজনীতিতে বোলসোনারিজম আন্দোলন অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে।