ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমির ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর দখলে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পুনর্বহালের জন্য সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।
এক টেলিভিশন ভাষণে আল-আলিমি রবিবার জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী জাতীয় ভূখণ্ডের সম্পূর্ণ অংশে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তার ঘটাবে এবং হুথিদের হাত থেকে দেশ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
এর আগে রবিবার ভোরে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট জানায় যে, তারা তোড় আল-বাহা ও তায়েজ ফ্রন্টে হুথিদের বিরুদ্ধে ৯৭টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে শত শত হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিদি জানান, শনিবার সরকারি বাহিনী হুথির বিভিন্ন ঘাঁটি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর ২৫৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়েছে এবং প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী অন্তত ৭০০ হুথি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে, হুথির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে তাদের বাহিনী রিয়াদ এবং রাজধানী থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত খুরাইসের সৌদি আরামকোর দুটি স্থানে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, তবে সৌদি আরব এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২২ সালের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি জুলাই মাসে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে হুথি ও ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যকার লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং এর ফলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে ইয়েমেনি সরকারকে আদেনে পিছু হটতে বাধ্য করার পর থেকেই দেশটিতে যুদ্ধ চলছে এবং মধ্য সেপ্টেম্বর নাগাদ হুথিরা মোচা বন্দর শহর ও কৌশলগত দ্বীপগুলো দখল করে নেয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিক শনিবার বলেন যে হুথিদের সঙ্গে বাহ্যিক এজেন্ডার সম্পর্ক ইয়েমেনে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে এনেছে।