গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কালীর বাজার কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি মিলন কুমার বর্মনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও একক আধিপত্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সাধারণ সনাতনী সমাজ।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেম চন্দ্র বর্মন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালের ২১ জুলাই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্মতিতে মাত্র এক বছরের জন্য মিলন কুমার বর্মনকে সভাপতি করে মন্দিরের কমিটি গঠন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ওই কমিটিই দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে বহাল রেখে এককভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া মন্দির সংস্কারের নামে সরকারি-বেসরকারি অনুদান, মন্দিরের দুটি দোকানের ভাড়া এবং প্রতি দুর্গাপূজায় পাওয়া প্রণামীর অর্থসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিলন কুমার বর্মনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মন্দিরের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে সাধারণ মানুষ ও সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজনকে ভয়ভীতি এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সাধারণ সনাতনীরা গণতান্ত্রিকভাবে নতুন কমিটি গঠন করলেও সেটি মেনে না নিয়ে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
১৮৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৭৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী কালীর বাজার কেন্দ্রীয় মন্দিরটি বর্তমানে একক আধিপত্য ও নানা অনিয়মের কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,এমন দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাধারণ সনাতনীদের গঠিত গণতান্ত্রিক কমিটিকে বৈধতা প্রদান এবং মিলন কুমার বর্মনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের ভুষণ কুমার দাস, জগদীশ বর্মন, খিলন রবিদাসসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।