রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি দেশে আসার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা ও কমিশনিং পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে গ্রিড প্রস্তুতির কাজ শুধু লাইন নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের সাথে ইন্টিগ্রেশন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। আইএইএ এবং রুশ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন পরিদর্শনের সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং বিআইডব্লিউটিএ-র সাথে ওয়াটার ইনটেক স্ট্রাকচার নিয়ে সমন্বয় করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি চালুর জন্য ২,৯০০ জন অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে বর্তমানে ১,৯২৮ জন কর্মরত এবং ১,২৯০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল প্রস্তুত রয়েছে। কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য রাশিয়ার সাথে পরিচলায়ন সহায়তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং দীর্ঘমেয়াদি স্পেয়ার পার্টস সরবরাহ—এই তিনটি সার্ভিস চুক্তি প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবিত প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা, যেখানে মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা।
বিদ্যুতের সরাসরি জেনারেশন খরচ ৪.৩১ টাকা/ইউনিট এবং পিডিবির প্রাথমিক ট্যারিফ প্রজেকশন ৬.৭২ টাকা/ইউনিট হলেও লাইফসাইকেল ব্যয়ের গবেষণাভিত্তিক গড় প্রাক্কলন প্রায় ১০.৩ টাকা এবং ব্রেক-ইভেন লেভেল প্রায় ১১.৯ টাকার আশপাশে হতে পারে। ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়ার মূল ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিশাল এই প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধি এবং গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিলম্ব এখন জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং অগ্রগতি ৯৮ শতাংশ হলেও ঠিক কবে নাগাদ নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। সার্বিক দিক বিবেচনায়, রূপপুরের চূড়ান্ত বাল্ক ট্যারিফ এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।