বুধবার রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ‘প্রতিটি হৃদ্স্পন্দনই জীবন’ শীর্ষক গণমুখী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী জানান, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; বরং রোগের ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। তামাক ব্যবহার, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। এসব ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর জনস্বাস্থ্য নীতি ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দেশে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব পর্যায় থেকে সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানান।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মালিক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর ২ কোটি ৫ লাখের বেশি মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগে মারা যান এবং এর প্রায় ৮০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী লবণ গ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।