গত ৯ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের মখা থেকে সরকারি বাহিনী পিছু হটলে হুথি বিদ্রোহীরা আল-খোখাসহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা দখল করে নেয়। এর পরদিনই বাব আল-মানদাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে চলে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংঘাতের মুখে আল-খোখা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন সাঈদ হাসান ও তাঁর ভাই মোহাম্মদের পরিবার। ২০১৮ সালে হুদাইদাহ থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এটি ছিল তাঁদের দ্বিতীয়বারের মতো ভিটেমাটি ছাড়ার ঘটনা।
সাঈদ ও মোহাম্মদের পরিবার প্রয়োজনীয় কিছু কাপড় ও নথি দুটি ছোট পিক-আপে তুলে রাত সাড়ে নয়টার দিকে মখার উদ্দেশে রওনা হয়। মোহাম্মদের কাপড়ের ব্যবসার বিপুল পণ্য সেখানে ফেলে রেখেই পরিবার দুটিকে যাত্রা করতে হয়। কিন্তু তাঁরা এলাকা ছাড়ার পরপরই স্থানীয়রা তাঁদের টিন ও ত্রিপলের তৈরি ঘর ভেঙে সমস্ত জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে পরবর্তীতে জানতে পারেন তাঁরা।
যাত্রা শুরুর পর থেকেই পরিবার দুটিকে চরম আতঙ্ক ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রাস্তায় গোলাগুলির মধ্যে সরকারি সেনাদের অস্ত্র ফেলে পালাতে দেখেন ৫৮ বছর বয়সী সাঈদ হাসান। মোহাম্মদ জানান, হুথিদের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে সেনারা পোশাক খুলে ফেলছিল এবং অনেকেই মাত্র ৫০০ সৌদি রিয়ালে অস্ত্র বিক্রি বা বালিতে পুঁতে ফেলছিল। রাস্তায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত সেনাদের ছিন্নভিন্ন মরদেহ পড়ে থাকার মতো ভয়াবহ দৃশ্যও তাঁদের প্রত্যক্ষ করতে হয়।
যাত্রাপথে তীব্র পানিশূন্যতা ও মোহাম্মদের গাড়ির চাকা একাধিকবার বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম সংকট তৈরি হয়। অবশেষে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবার দুটি এডেনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। সেখানে একটি আশ্রয়কেন্দ্রের একক কক্ষে আটটি পরিবারের ঠাঁই হলে শুধু নারীদের থাকার সুযোগ মেলে, আর সাঈদকে রাত কাটাতে হয় খোলা আকাশের নিচে।
জ্বালানি সংকটের কারণে আবিয়ান গভর্নরেটের লাওদারে দুই দিন অপেক্ষার পর ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁরা মুকাল্লার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে শাবওয়া গভর্নরেটের হুরায় সাঈদের গাড়িটি বিকল হলে এক স্থানীয় মেকানিককে ঘুম থেকে ডেকে মেরামত করা হয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহের বিভীষিকাময় যাত্রা শেষে অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর পরিবার দুটি তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য মুকাল্লায় পৌঁছায়।