চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার লড়াই এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকার এ জে চৌধুরী কলেজ মাঠে এই যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রতিবাদে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশ নেন দলের চারজন সংসদ সদস্য। সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, বিভিন্ন দপ্তর থেকে সংসদ সদস্যদের কর্মসূচিতে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দলীয় হাইকমান্ডের চূড়ান্ত মনোনয়নে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দক্ষিণ জেলা থেকে স্থানীয়ভাবে নিজেদের পছন্দমতো বিশেষ ব্যক্তিদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বানানোর চেষ্টা চলছে, যা দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারাত্মক বিভ্রান্তি তৈরি করছে। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই দাবি করে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংসদ সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ আছেন এবং দলের অনেক নেতাই তাদের এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তবে জেলা কমিটিকে না জানিয়ে এই সমাবেশ করায় শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, কমিটিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এ ধরনের যৌথ সমাবেশ আয়োজন সরাসরি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তিনি জানান, এ বিষয়ে দলের হাইকমান্ডকে লিখিতভাবে জানানো হবে এবং সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। মূলত আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলাভিত্তিক বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আগে থেকেই কোনো কিছু জানানো হয়নি। ইউপি নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় না করায় তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয় এবং পরের দিনই তারা আলাদা যৌথ সমাবেশ করেন।