নোয়াখালীর সুবর্ণচর বৈরাগীবাজার সংলগ্ন ৬নং চর আমানউল্লাহ ইউনিয়নে 'হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদ' হাতিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক রুদ্র সাহার নির্মাণাধীন বাড়িতে চাঁদার দাবিতে হামলা করে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি জুম্মন ও চরবাটা ইউনিয়ন যুবদল সেক্রেটারি নূর মোহাম্মদ ভুট্টো ওরফে ভুট্টু মেম্বার।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪-এ সরকার পরিবর্তনের পর থেকে একই দাগে অবস্থিত রাধামাধব মন্দির ও ১৮টি হিন্দু পরিবারের জমি নিজেদের দাবী করে সবাইকে উঠে যেতে হুমকি প্রদান করে আসছিল 'মেম্বারপার্টি' নামক একটি সংঘবদ্ধ চক্র। যার প্রেক্ষিতে, সংখ্যালঘু পরিবারগুলো ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দুই বছর যাবৎ ওই জমিতে সকল প্রকার চাষাবাদ ও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। বিষয়টি তখন রুদ্র সাহা, ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটিগুলোকে অবগত করতে থাকে।
উল্লেখ্য, একই দাগে রুদ্র সাহার পিতা স্বপন চন্দ্র সাহার নামে ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। যা ২০০৮ সালে সুবর্ণচর উপজেলার চর বজলুল করিম মৌজায় ৩৭৩৫ নং দলিল মূলে ক্রয় করা হয়। জমির নামজারী DCR ২৪৭৫৮৫২৮১০৪৪৮৮, বি.এস. খতিয়ান নং ১৬৮০ ও দাগ নং ২২৯-এর অন্তর্ভুক্ত।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, তারা ২৪ সালের ৫ই আগস্টের পূর্বে ছাদ ঢালাই পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণকাজ শেষ করে। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হলে মেম্বারপার্টি পাকিস্তান আমলের টিপসই দলিলকে পূজি করে মামলাবাজি ও শতাংশ প্রতি ৫০ হাজার করে চাঁদা দাবি করতে থাকে। একই কৌশলে সুবর্ণচরের একাধিক স্থানে দখলবাজির তথ্য রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে যার নেতৃত্বে রয়েছে নূর মোহাম্মদ ভুট্টো।
গত ৩০ জুন ২০২৬ সকাল ১০টার সময় রুদ্র সাহা ও তার মা নিপু রাণী বাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করলে মেম্বার বাহিনীর জুম্মন তার লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়। এসময় জুম্মন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদকে অভিযোগ করার অযুহাতে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করতে থাকে এবং মিস্ত্রিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। যা মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনায় রুদ্র সাহার মা নিপু রাণী সাহা স্থানীয় চর জব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল হাসান অভিযুক্ত ভুট্টু মেম্বারকে হাজির করেন।
পরবর্তীতে সুবর্ণচর উপজেলা প্রেসক্লাবের উপস্থিতিতে একাধিকবার থানা বৈঠক করলেও ভুট্টু মেম্বার মামলার কপি ব্যতিত মালিকানা সম্পর্কিত কোনো গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। তখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রেসক্লাব সভাপতি কামাল ও উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তে অঙ্গীকারনামা করে নির্মাণ কাজ করতে বলা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ সকাল ১০টার দিকে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করলে ভুট্টু মেম্বার দ্বিতীয় দফায় যুবদল কর্মী মনির ও জুম্মনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন একত্রিত হয়ে হামলা করে নিপু রাণীকে প্রকাশ্যে হত্যা চেষ্টা করে। মিস্ত্রিদের মারধর করে এবং তাদের যন্ত্রপাতি ও সিমেন্ট পানিতে ফেলে দেয়। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জেলাপ্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আলাদাভাবে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)- কে মৌখিকভাবে অভিযোগ দেয়া হয়।
ভুক্তভোগী রুদ্র সাহা জানান, 'পৃথিবীর সব দেশে সংখ্যালঘুরা কমবেশি চাপে থাকে কিন্তু এই দেশে যেটা হয় এইটাকে নির্যাতন বললে কম হয়ে যাবে। যেমন আমরা আজ দুই বছর যাবৎ প্রশাসন আর রাজনৈতিক নেতাদের ধরণা ধরেও নিজের যে নূন্যতম নাগরিক অধিকার সেইটা আদায় করতে পারিনি। আমি মনে করি এই পরিস্থিতির জন্য আমরা নিজেরা দায়ী। কারণ প্রতিবার একটা নির্দিষ্ট দলের ভোটব্যাংক হয়ে যাওয়াতে অন্য কেউ আমাদের পাশে দাড়াই না।'
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)'র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা অভিযোগকারীর কাগজপত্রাদি যাচাই করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দেখেছি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতা করা হবে' বলে আশ্বস্ত করেন।