বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিতে চীন ও পাকিস্তান তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার রাজধানীর জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের ১৩৫ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। চীন বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ফেলোশিপে নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির হাসপাতালগুলোতে তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
চীন দেশে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে চীনে নিয়ে গিয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এছাড়া পাকিস্তানের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা এখান থেকে ক্যান্সারের রোগী নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করবে এবং এখানে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবে। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী থ্যালাসেমিয়া ও এইচআইভি প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া কী হারে বাড়ছে তা চিকিৎসকরা জানেন এবং বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ের রক্ত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া উচিত। স্বামী ও স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে সব রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকেরা যেখানে যাবেন, সেখানেই মানুষকে থ্যালাসেমিয়া, এইচআইভি ও ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফরের সভাপতিত্বে বিশিষ্ট চিকিৎসকরা বক্তব্য দেন।