ইরানি সরকার ওষুধের উৎপাদন হ্রাসের সুনির্দিষ্ট তথ্য না জানালেও, বিমান হামলায় ক্যানসারের ওষুধ প্রস্তুতকারকসহ ৪০টির বেশি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া নগদ সংকটগ্রস্ত ফার্মেসিগুলোর পক্ষে ওষুধ মজুত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বিমা কোম্পানিগুলো অর্থ পরিশোধে নয় মাস পর্যন্ত দেরি করছে। সংসদীয় স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জামালিয়াট বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সাত মাসের মাথায় সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়ে কিছু ওষুধের দাম তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। মুদ্রার মান সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর পাশাপাশি বেকারত্ব ও খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আকাশছুম্বী হয়েছে। তেহরানের গোলামরেজা রহমানি নামের এক ওয়েল্ডার তার ১২ বছর বয়সী মেয়ের জন্য চারিত্রিক ওষুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইরান চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি ওষুধ দেশেই তৈরি করলেও কাঁচামালের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করে। মার্কিন নৌ-অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় আমদানিকারকরা আকাশপথ ব্যবহার করেছিলেন, যা এখন নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে হুমকির মুখে পড়েছে। অধ্যাপক রেজা মাজেদজাদেহ জানান, আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে পেমেন্ট প্রসেস করতে অস্বীকার করায় সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে বড় সংকট না থাকলেও সাধারণ ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ সংকট স্পষ্ট।