হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র সামরিক উত্তেজনা চললেও অঞ্চলটি দিয়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান এই জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ বিভিন্ন জাহাজে সফল হামলার দাবি করেছে। তেহরানের মতে, এসব হামলার মুখেই ওয়াশিংটন তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানি উপকূল থেকে আরও দূরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
উত্তেজনা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ বাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট রবিবার জানান, প্রণালীটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হচ্ছে। এদিকে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই পরিমাণ দৈনিক ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে যুদ্ধপূর্ব সময়ে দৈনিক পরিবহন ছিল প্রায় ২ কোটি ব্যারেল।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ১৯টি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে, যার মধ্যে ১৭টিই ছিল বিশালাকার অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা ভিএলসিসি। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ওমান, কাতার, কুয়েত ও ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বে ওয়াক্ত-ই ইরান’-এ বিশ্লেষকরা স্বীকার করেছেন যে প্রতিদিন অন্তত ৭০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ দিয়ে পার হচ্ছে। তারা জানান, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষায় বিশেষ শাটল ব্যবস্থার মাধ্যমে তেল পরিবহন করছে। আন্তর্জাতিক বীমা সংস্থার উচ্চ মাশুল এড়াতে তারা ওমান উপকূল ঘেঁষে ট্র্যান্সপন্ডার বন্ধ রেখে এবং একটি জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করে তা পরিবহন করছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তেহরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে আগের সমঝোতা ও চুক্তির ভিত্তিতে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং পরমাণু কর্মসূচির সমাধান দাবি করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজে ইরান তাদের হামলার তীব্রতা আরও বাড়াতে পারে। ইতিমধ্যে মার্কিন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন মার্কিন মেরিন সেনা আহত হন। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আহত সদস্যের সংখ্যা বেড়ে ৮৬১ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, হরমুজের প্রহরীদের জোরালো আঘাতের মুখে মার্কিন বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে এবং শিগগিরই আরব সাগরও তাদের দখলমুক্ত হবে। অন্যদিকে, হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে ওয়াশিংটন এখনো ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।