ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মুনাফা ও কৃত্রিম সঙ্কট পরিহার করে যৌক্তিক মূল্যে ডিম বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যালোচনা বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন মন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিম দেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য হওয়ায় এর দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন এবং যৌক্তিক মুনাফা করবেন এটি স্বাভাবিক হলেও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যা ও সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারে যাতে কোনো পক্ষ সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হবে।
সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ভুট্টা ও সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১১ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ৭ টাকা ৯১ পয়সা থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। বছরের একটি বড় সময় উৎপাদন খরচের নিচে ডিম বিক্রি করতে হয় জানিয়ে ব্যবসায়ীরা দামের মৌসুমি ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় ডিম সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন এবং সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে দাম কমে আসবে বলে জানান।
উক্ত সভায় বাণিজ্য সচিব মো: আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ উল্লাহসহ পোলট্রি খাত ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের লক্ষ্য হলো উৎপাদক যেন ন্যায্যমূল্য পান, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করতে পারেন এবং ভোক্তারা সহনীয় দামে ডিম কিনতে পারেন বলে সভায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।