বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ ও নবাগত অভিনেত্রী কোমল রানী স্বর্ণকারের সম্পর্ক নিয়ে বলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের লালবাগচা রাজা দর্শনসহ কয়েকটি স্থানে বাষট্টি বছর বয়সী গোবিন্দ ও কোমলকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। কোমল রানী স্বর্ণকারের সঙ্গে এই পরকীয়া সম্পর্কের খবরটিকে অবশ্য একেবারেই পাত্তা দেননি গোবিন্দ।
কলকাতার একটি মন্দির দর্শনে গিয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে গোবিন্দর স্ত্রী সুনীতা আহুজা বলেন, আমার জীবনেও কিছু অশুভ শক্তি বা দানব রয়েছে; মাতার আদেশে তাদের বিনাশের পথ খুঁজতে এখানে এসেছি। তবে আরেকটি সাক্ষাৎকারে ডিভোর্সের খবর উড়িয়ে দিয়ে সুনীতা বলেন, এই সব কথার কথা। কারণ ডিভোর্স আমি দেব না। গোবিন্দ আমার ছোটবেলার ভালোবাসা, চল্লিশ বছর সঙ্গে থেকেছি। ডিভোর্স দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
সুনীতার বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কোমল রানী স্বর্ণকার লেখেন, যে নারী বছরের পর বছর ধরে নিজের স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করে আসছে, এমন নারীর অভিশাপ কারো লাগে না। আগে থেকেই ভেঙে যাওয়া একটি সংসার কেউ কখনো ভাঙতে পারে না। আমাদের দেশের মানুষ এতটা বোকা নয় যে, কেউ বলল কাক তোমার কান নিয়ে গেছে, আর তারা কাকের পেছনে ছুটতে শুরু করবে।
কোমল রানী আরও প্রশ্ন তুলে বলেন, দেখে মনে হচ্ছে—প্রকাশ্যে নিজের কষ্ট তুলে ধরতেই আনন্দ পান তিনি। এটা কি সত্যিই কষ্ট, না কি সুচিন্তিত কোনো ষড়যন্ত্র? একজন পুরুষকে নিয়মিত মানসিকভাবে হয়রানি করা, তাকে কাজ করতে বাধা দেওয়া, জোর করে ঘরে বসিয়ে রাখা ও ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যেতে বাধ্য করা, সম্পূর্ণভাবে তাকে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া এবং এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান।
নিজের নাম ব্যবহার করে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে নিষেধ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ঈশ্বর যেন প্রতিটি ভদ্র ও ভালো মানুষকে এমন ধূর্ত নারীদের হাত থেকে রক্ষা করেন। ভালো কোনো স্ত্রী তার স্বামীর সঙ্গে এতটা নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এ ধরনের নারীরা কি মানসিকভাবে অসুস্থ, না কি নিজের স্বার্থে এতটা চতুর? তারা কী পুরোপুরি সচেতন যে, ঘরের দরজা বন্ধ রেখে যা অর্জন করতে পারেননি, মানুষের সহানুভূতি অর্জন করে প্রকাশ্যে এসে সেটাই অর্জন করতে পারবেন?
দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে গোবিন্দ বড়পর্দায় ফিরছেন ‘রূপা’ ও ‘দুনিয়াদারি’ শিরোনামের দুটো সিনেমার মাধ্যমে, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করবেন কোমল রানী স্বর্ণকার। ২০১৯ সালে বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়া ‘রঙ্গিলা রাজা’ ছিল তার সর্বশেষ সিনেমা। ২০২২ সালে একটি তথ্যচিত্রেও তাকে দেখা গিয়েছিল। গত সাত বছর ধরে চলচ্চিত্র থেকে দূরে রয়েছেন নব্বই দশকের পর্দা কাঁপানো এই তারকা।
১৯৮৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া গোবিন্দ ও সুনীতা দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে—টিনা ও যশবর্ধন। টিনা আহুজা ২০১৫ সালে ‘সেকেন্ড হ্যান্ড হাজবেন্ড’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রেখেছেন এবং পরিচালক সাই রাজেশের হাত ধরে ছেলে যশবর্ধনেরও শিগগিরই অভিষেক হতে যাচ্ছে। এর আগেও মারাঠি এক অভিনেত্রীর সঙ্গে গোবিন্দর পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন সুনীতা, তবে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেন।