ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা আনরোয়ার (ইউএনআরডব্লিউএ) সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা দেওয়ায় ‘বোর্ড অব পিস’-এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাস। গাজায় সংস্থাটির কোনো ভূমিকা থাকবে না বলে পরিষদটির দেওয়া বিবৃতিরও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের এই স্বাধীনতাকামী সংগঠন।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম শনিবার বলেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে জায়নবাদী অবস্থানের অনুকূলে নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য আনরোয়ার কার্যক্রম বন্ধ করা, ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া এবং তাদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার নস্যাৎ করা। গাজায় ত্রাণ পাঠাতে কিংবা ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ থামাতে ব্যর্থ হয়েও পরিষদটি আনরোয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এর আগে শুক্রবার বোর্ড অব পিস সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, তারা কেবল বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গেই কাজ করবে যারা গাজাবাসীর জন্য ভূমিকা রাখবে এবং কট্টরপন্থা দূরীকরণে অবদান রাখবে। একই সঙ্গে তাদের দাবি, আনরোয়া এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। তবে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটিকে ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার রক্ষার প্রতীক মনে করলেও ইসরায়েল এটি বিলুপ্ত করতে চায়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান দেখালেও গোপনে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন বোর্ড অব পিসের সদস্যরা। বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জনগণের উপকারে এলে কর্মসূচি চলতে পারে, তবে আনরোয়ার দিন শেষ হয়ে এসেছে। অন্যদিকে আনরোয়ার সাবেক প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানান, গাজা পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি সংস্থাটির সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী ছিল।
এদিকে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাজুড়ে সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাবালিয়া, নুসেইরাত শরণার্থী শিবির, খান ইউনিস ও সালাহ আল-দিন স্ট্রিটে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কন্যাশিশুরাও রয়েছে।
একই সঙ্গে পশ্চিম তীরেও ধরপাকড় চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। রামাল্লার বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে ভবনটিতে অভিযান চালায় তারা। এছাড়া তুলকারেমে বাশার ওদেহ নামের এক ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করাসহ কালান্দিয়া ও আমআরি শরণার্থী শিবিরে তল্লাশি অভিযান চালায় দখলদার বাহিনী।