গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামে হযরত আলী হত্যা মামলায় বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আসামি করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে চাকলা গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামলার আসামি হানিফ শেখের স্ত্রী মিনা বেগম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তিনি মামলাটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে মিনা বেগম অভিযোগ করেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর চাকলা গ্রামে হযরত আলী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার স্বামী হানিফ শেখসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে। তার দাবি, ঘটনার সময় এজাহারে নাম থাকা আসামিদের কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও তাদের মামলায় আসামি করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। তবে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তার স্বামীসহ অন্যদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের কথাও উল্লেখ করেন।
মিনা বেগমের অভিযোগ, ঘটনার পর নিহত হযরত আলীর স্ত্রীকে স্থানীয়রা আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন। একই সময়ে সাবেক ইউপি সদস্য মোসলেম উদ্দীন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মামলাটির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধী ও ঘটনার নেপথ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান বক্তারা।
এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও দাবি করেন, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের কেউ কেউ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।