দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রথম দফায় টিকার বাইরে থাকা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে এমআর টিকার আওতায় আনতে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। টিকাদানের এ ক্যাম্পেইন চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। শনিবার সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত চার বছর পরপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকারকে সেই চার বছরের খেসারত দিতে হচ্ছে। পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
করোনাকালে চিকিৎসকদের অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের উন্নত ও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও শতাধিক চিকিৎসকের আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম ছিল। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে বিশেষ এমআর টিকাদানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও ২৮ জুনের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেয়। এতে প্রায় ৪৩ লাখ শিশু টিকার বাইরে থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয় এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত করতেই দ্বিতীয় দফার এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।