রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ তানিয়া আক্তার মারা গেছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং এই নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে একই ঘটনায় তানিয়ার মামা সিদ্দিক বেপারী মারা যান, যার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এছাড়া গত রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মারা যান সিদ্দিকের ছেলে ইমন, যার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তিতে পাশাপাশি বসবাস করায় শুক্রবার বাসার সামনে জমে থাকা ময়লা পানি পরিষ্কার নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাগবিতণ্ডা হয়। সুলতানা বিষয়টি প্রবাসী ভাই ইমনকে জানালে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন এবং হুমকি দেন যে নিজে মরে সবাইকে নিয়ে মরবেন। পরবর্তীতে তিনি কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে ইমন, তার বাবা ও তানিয়াসহ অন্যরা দগ্ধ হন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ অগ্নিকাণ্ডে তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তিনজনের মৃত্যুর ফলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক এই বিরোধের জেরে এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।