জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, দুঃখ-বেদনা, দুশ্চিন্তা ও হতাশা অনেক সময় মানুষের নির্জন রাতকে দুর্বিষহ করে তোলে। গভীর রাতে যখন সব কোলাহল থেমে যায় এবং ব্যস্ত জনপদে সুনসান নীরবতা নামে, তখন মনের আঙিনায় ভিড় করে বেদনাময় স্মৃতির কথা। এমন যন্ত্রণাকাতর ও নির্ঘুম রাতে নামাজ মুমিনের শ্রেষ্ঠ আশ্রয় হতে পারে, যেখানে মহান আল্লাহর দরবারে হৃদয়ের সব ব্যথা উজাড় করে দেওয়া যায়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। আশ্রয়হীনতা ও সঠিক অবলম্বনের অভাবই মূলত বিপদগ্রস্ত মানুষের ঘুম হারাম করে দেয়, আর নামাজ মানুষকে সরাসরি আল্লাহর আশ্রয়ে স্থান করে দেয়। এছাড়া নামাজের মাধ্যমে বান্দার মনের গ্লানি ও মানসিক চাপ দূর হয়, কারণ কোনো বিষয় চিন্তিত করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ পড়তেন বলে সুনানে আবি দাউদের ১৩১৯ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
গভীর রাতে ঘুম পালিয়ে গেলে দুর্ভাবনার সাগরে না ডুবে অজু করে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যাওয়া উচিত, কারণ আল্লাহ নামাজে মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তি রেখেছেন। সুনানে নাসায়ির ৩৯৩৯ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, নামাজেই আমার চোখের প্রশান্তি রাখা হয়েছে। সিজদায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয় এবং সহিহ মুসলিমের ৪৮২ নম্বর হাদিস অনুযায়ী এই সময়ে অধিক পরিমাণ দোয়া করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
নামাজ মুমিনের অন্তর থেকে সব হতাশা ও অস্থিরতা দূর করে দেয়, যা সুরা মাআরিজের ১৯-২২ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষের কথা ও কাজে অন্তরে যে গ্লানি সৃষ্টি হয়, সিজদায় অবনত হলে তা দূর হয়ে যায় বলে সুরা হিজরের ৯৭-৯৮ আয়াতে বলা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, অন্তরে আল্লাহর প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস ও ভালোবাসা থাকলে তবেই নামাজ বান্দার জন্য প্রকৃত উপশম ও আরোগ্য হিসেবে কাজ করে।