রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও সচেতনতা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গেই ডেঙ্গু নিশ্চিত করতে হাসপাতালে ছুটছেন, আবার অনেকে অতিরিক্ত খরচের ভয়ে ফার্মেসির ওষুধ খেয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন। সঠিক সময়ে পরীক্ষা না করায় জটিলতার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে এবং চলতি সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাত পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে এবং বিশেষায়িত হাসপাতালের ভিড় কমাতে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সেবা দিতে মোবাইল হাসপাতাল ও সেনাবাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে পরীক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভিন্ন মত রয়েছে, যেখানে কেউ কেউ ৫০ টাকার ওষুধে ভালো হওয়ার কথা বলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়াতে চান।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নন্দিতা পাল জানান, জ্বর হওয়ার তিন দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করা জরুরি এবং জ্বর কমার পরই অনেক সময় শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২০১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত ২৬ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ডেঙ্গু চিকিৎসায় সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে এবং হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ঘরে ঘরে মানুষ ডেঙ্গুসহ নানা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাই চিকিৎসকরা অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।