গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের একটি গ্রামে পিতৃহারা ১৩ বছরের এক কিশোরীকে অভাবের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি গ্রাম্যভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিতেন। এরপর প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে কিশোরী অভিযোগ করেছে।
কিশোরীর দাবি, ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি পানির নিচে ডুবিয়ে হত্যার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও সে জানিয়েছে। এ কারণে ভয়ে দীর্ঘদিন বিষয়টি তার মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের জানাতে পারেনি বলে কিশোরীর বক্তব্য।
অভিযোগের বিষয়ে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরীকে নিজের নামে নিবন্ধিত একটি মোবাইল সিম ও ফোন কিনে দিয়েছিলেন। ওই ফোনের সূত্র ধরে প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিষয়টি পরিবারের কাছে জানাজানি হয় বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্তের পক্ষের কিছু লোকজন বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে কিশোরীকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে—ঘটনাটি মিথ্যা বা কাউকে ফাঁসানোর জন্য কেউ তাকে শিখিয়ে দিয়েছে কি না সে তা অস্বীকার করে। তার বক্তব্য, কেউ তাকে এসব শেখায়নি এবং নিজের সঙ্গে কী ঘটেছে তা সে জানে। ভয় ও হত্যার হুমকির কারণেই এতদিন কাউকে বিষয়টি জানাতে পারেনি।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘটনাটি গ্রাম্য বা পারিবারিকভাবে মীমাংসার জন্য তদবিরের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অন্য একজন ফোনটি রিসিভ করে জানান, তিনি বাজিতনগর বাজারে গেছেন। পরে কথা বলবেন বলে জানান।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জানান, তিনি বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন। বিস্তারিত জেনে পরে জানাবেন।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘটনাটি এলাকায় আলোচনা হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে চাইছেন না।
অভিযুক্ত ব্যক্তির এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়।এটি সাজানো ঘটনা। তার চাচা এমন কাজ করতে পারেন না।
কিশোরীর মা জানান, এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি প্রথমে গ্রাম্যভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ না করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।