মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে চিনকে নিয়ে নানা কঠোর মন্তব্য করলেও সম্প্রতি বেইজিংয়ের প্রতি তাঁর সুর নরম করেছেন। হোয়াইট হাউসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত উষ্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা জানান ট্রাম্প। অথচ অতীতে তিনি চিনকে প্রতারক, শত্রু কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ধ্বংসকারী বলে আক্রমণ করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য ঘাটতি ও বিরল খনিজ পদার্থের ওপর চিনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ মার্কিন অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে। মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে চিনের পণ্য রপ্তানি ও বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
চিনের হাতে থাকা রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজ পদার্থ মার্কিন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট পরিচিত এসব খনিজের ৬০ শতাংশ চিনের কাছে রয়েছে এবং তারা এর ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে। এই শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা ছাড়া উপায় নেই।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের যুদ্ধবিরতি মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে তাইওয়ান ইস্যু, ইরান যুদ্ধ এবং এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় কোনো কৌশলগত বিরোধের সমাধান হয়নি। দুই নেতাই সম্পর্কের আরও অবনতি রোধে সচেষ্ট থাকার বার্তা দিয়েছেন।