ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সতর্ক করে বলেছেন যে ইসরায়েলের নীতিগুলো কেবল দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকেই দুর্বল করছে না, বরং ফিলিস্তিনিদের জীবন ও অস্তিত্ব সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। রামাল্লায় নিজের কার্যালয় থেকে রেকর্ড করা এই বক্তব্য বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে সম্প্রচার করা হয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনিরা তাদের ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী হত্যা, ধ্বংস, অনাহার ও জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির মাধ্যমে গাজায় ফিলিস্তিনিদের জীবন মুছে ফেলছে। তিনি আরও বলেন যে গাজার পাড়া, শহর, শরণার্থী শিবির, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, মসজিদ ও গির্জা ধ্বংস করা হয়েছে এবং জীবনধারণের প্রতিটি ভিত্তি ও পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে টার্গেট করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আব্বাস জানান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আগামী ২৮ নভেম্বর গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথম আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এর আগে ২০০৫-২০০৬ সালে ফিলিস্তিনিরা শেষবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, যার পরেই হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং তিনি উল্লেখ করেন যে তারা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুত জাতীয় সংস্কার কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন।
এদিকে হামাস বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধ শেষের জন্য মার্কিন সমর্থিত শান্তি বোর্ডের প্রক্রিয়া ও যুদ্ধবিরতি বানচালের চেষ্টার অভিযোগ এনেছে। হামাস একটি ১৫ দফা রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে, যার মধ্যে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার প্রশাসন একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।