শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সখিপুরের উত্তর মাধু সরকার কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীকে প্রতিবেদনে ছদ্মনাম ‘সাদিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করা হলো।
পরিবার ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ওই নারী বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন। এ সময় একই এলাকার সিদ্দিক নামে এক ব্যক্তি তাকে নিজের ঘরে ঢেকে নিয়ে ভাত বসানো হয়েছে কি না দেখে আসতে বলেন। তার কথায় ওই নারী ঘরে গেলে, অভিযোগ অনুযায়ী, সিদ্দিক পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ওই নারী দীর্ঘসময় চেষ্টা করে অভিযুক্তের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেন এবং বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা না করে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা হাজী দুলাল হোসেন সরকার অভিযুক্ত সিদ্দিককে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। পাশাপাশি দুই-তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলা হয় বলেও দাবি পরিবারের।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু সরকারসহ কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে তাদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলা করলে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং এলাকায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
পরিবারটির দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপ ও হুমকির কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”