নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে এই মুহূর্তে বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা করা খুব তাড়াহুড়ো হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অতীতেও আলোচনার ব্যর্থ ইতিহাস রয়েছে এবং সামরিক হুমকির মধ্যেই এই আলোচনাগুলো অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনাকে ইতিবাচক বললেও একই দিন জাতিসংঘে কঠোর হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে তারা যেকোনো হামলার জবাবে আরও মারাত্মক আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং গৃহস্থালির রাজনৈতিক চাপের কারণে বড় কোনো চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবারে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার তিন ঘণ্টা ধরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে পরোক্ষ বৈঠক করেছেন। এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার ভোরে নিউ ইয়র্কে পৌঁছান, যা যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন মাটিতে কোনো ইরানি নেতার প্রথম সফর। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সপ্তাহের বৈঠকগুলো থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি আসার সম্ভাবনা কম।
সংকট নিরসনে কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যা হরমোজ প্রণালী ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চীনও তেলের বাজার ও নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তেহরানকে সমঝোতার জন্য উৎসাহিত করছে। তবে শেষ পর্যন্ত যেকোনো চুক্তির জন্য ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষের কঠোরপন্থীদের সম্মতি প্রয়োজন হবে।
মূল চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি সূত্র খুঁজে বের করা যা উভয় সরকার নিজ দেশে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে একটি সমঝোতা হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। হরমোজ প্রণালী এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের মূল বিরোধ এখনও অপরাজিত রয়ে গেছে। ফলে চলতি সপ্তাহে বড় কোনো চুক্তি না হলেও এই কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে নতুন আলোচনার পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।