দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সুরক্ষায় অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। কোনো ধরনের আলোচনা, গণশুনানি বা অংশীজনদের সাথে কার্যকর আলোচনা ছাড়াই আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্তরায় বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইপিডি।
আইপিডি মনে করে, বৈশ্বিক অস্থিরতা বা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে তেলের দাম সরাসরি ভোক্তাপর্যায়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া কোনো টেকসই বা পরিকল্পিত সমাধান নয়। আমাদের অর্থনীতিতে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ডিজেল, যা দেশের পরিবহন, কৃষি ও পণ্য সরবরাহের মূল চালিকাশক্তি। ফলে জ্বালানির এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি বাস ও পণ্য পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে দেবে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রাকে চরম সঙ্কটে ফেলবে। বিগত পাঁচ মাসের মধ্যেই তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বিশাল সঙ্কটের মুখে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিপিসির আর্থিক চাপ বাস্তব হলেও এর পুরো বোঝা একবারে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলে মনে করে আইপিডি। শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভারত, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশের উদাহরণ দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক সঙ্কটে শুধু মূল্যবৃদ্ধিই একমাত্র পথ নয় বরং শুল্ক ও করছাড়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে সঙ্কট মোকাবিলা করা সম্ভব। উৎপাদনশীল খাত ও জনস্বার্থ রক্ষার্থে জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।